রামনামেই ভরসা! ‘জেল থেকে ছাড়া পাক কেষ্টদা’, প্রার্থনা জানিয়ে রাম ভজন জপলেন তৃণমূল নেতারা

গরু পাচার কাণ্ডে দেড় বছরের বেশি সময় ধরে জেলবন্দি বীরভূমের বেতাজ বাদশা অনুব্রত মণ্ডল। বারবার জামিনের আবেদন করেও মেলেনি মুক্তি। এবার তাই কেষ্টর জামিনের জন্য রামনামেই ভরসা তৃণমূলের। হরিনাম সংকীর্তন আয়োজন করল দল। আর তা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরের অন্ত নেই।

প্রসঙ্গত, গত ২২ জানুয়ারি এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থেকেছে দেশ-সহ গোটা বিশ্ব। ৫০০ বছরের বনবাস কাটিয়ে অবশেষে অয্যোধ্যায় ফিরেছেন রামচন্দ্র। এদিনই প্রাণ প্রতিষ্ঠা হয়েছে রামমন্দিরের রামলালার। এই উদ্বোধন নিয়ে ভক্তদের মধ্যে উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো। রামমন্দিরের দ্বার জনসাধারণের জন্য খুলতেই উপচে পড়ছে ভক্তদের ভিড়। এবার অনুব্রতর গড়েও শোনা গেল রামনাম।

কী ঘটেছে সেখানে?

বীরভূমের সাঁইথিয়ায় অনুব্রতর জামিনের জন্য হরিনাম সংকীর্তনের আয়োজন করা হল দলের যুব সংগঠনের সদস্যদের তরফে। অনুব্রত যাতে তাড়াতাড়ি জামিন পেয়ে যান, তার জন্য প্রভু রামের কাছে প্রার্থনা জানালেন তাঁর অনুগামীরা। আর তৃণমূলের সেই কর্মসূচি নিয়ে শোরগোল গোটা এলাকায়।

কী প্রতিক্রিয়া বিরোধীদের?

বিরোধীদের কটাক্ষ, যাই করা হোক না কেন, জামিন পাবেন না অনুব্রত। বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি দীপক দাস খোঁচা দিয়ে বলেন, “তৃণমূল যে শেষ পর্যন্ত রাম নাম জপ করছে, এটা ভালো লাগছে। কিন্তু অনুব্রত জামিন পাবে না”।

যদিও তাতে বিশেষ আমল দিতে নারাজ ঘাসফুল শিবির। তৃণমূলের জেলা কোর কমিটির আহ্বায়ক বিকাশ রায়চৌধুরীর বক্তব্য, “অনেক মানুষ অনুব্রতকে ভালোবাসে। তারা চাইছেন অনুব্রত জেল থেকে বেরিয়ে আসুন। সে জন্যই হয়তো কেউ হরিনাম করছেন, কেউ আবার মাজারে যাচ্ছেন”।

উল্লেখ্য, গরু পাচার কাণ্ডে ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। বর্তমানে তাঁর ঠিকানা দিল্লির তিহাড় জেল। দেড় বছরের বেশি সময় ধরে জেলবন্দি তিনি। যখন সকলে ভাবতে বসেছে যে বীরভূমে অনুব্রতর প্রভাব ক্ষুণ্ণ হতে চলেছে, সেই সময় দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেষ্টর সমর্থনে পাশে দাঁড়ান। এতে অক্সিজেন পায় অনুব্রতর অনুগামীরা। সেই কারণেই এবার কেষ্টর জামিনের প্রার্থনা তাদের।

RELATED Articles