‘রাজ্য পুলিশ পুরভোট পরিচালনা করায় সুবিধে হয়েছে, একটা জামা পরেই ৪০টা ভোট দিয়েছি, বিধানসভার সময় বদলাতে হয়েছিল’, অকপটে স্বীকার তৃণমূল নেতার

রাজ্য পুলিশ পুরভোটের দায়িত্বে থাকায় বেশ সুবিধা হয়েছে, একটা জামা পরেই ৪০টা ভোট দিতে পেরেছেন। আগে বিধানসভা নির্বাচনের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকার কারণে জামা বদলাতে হয়েছিল। কোনও রাখঢাক ছাড়াই অকপটে একথা স্বীকার করে নিলেন এক তৃণমূল নেতা।

তাঁর নাম মির চঞ্চল। হুগলির আরামবাগের তিরোল পঞ্চায়েতের ৪ নম্বর বুথের প্রাক্তন তৃণমূল সভাপতি তিনি। বিধানসভা ভোটের সময়ও তিনি তিরোল পঞ্চায়েত এলাকার ভোটার ছিলেন। এ বার আরামবাগের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার হয়েছেন। গতকাল, রবিবার কাঁটাবনী আজাদ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বুথে ভোটও দিলেন।

রবিবার সকালে ভোট শুরু হওয়ার পর থেকেই আরামবাগে শাসকদলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ও ছাপ্পা ভোট দেওয়ার অভিযোগ তুলে আসছিলেন বিরোধীরা। জানা গিয়েছে মির চঞ্চল বুথে ঢোকেন সকাল ৯ট নাগাদ। আর এরপর সেখানে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বুথ দখল ও ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ তোলা হয়।

এই বিষয়ে ওই তৃণমূল নেতা বলেন, “আমি দলের সৈনিক। দলকে জিতিয়ে উন্নয়ন জারি রাখতে চাই। দল আমাকে যা নির্দেশ দিয়েছে, তা-ই করেছি”। গত বিধানসভা এবং লোকসভা ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাপট নিয়ে বেশ ক্ষোভ উগরে দেন মির। বলেন, “কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকায় ১০ বার ভোট দিতে ১০টা জামা বদলাতে হয়েছিল। এ বার রাজ্য পুলিশের পরিচালনায় পুরভোটে এক জামাতেই প্রায় ৪০টা ভোট দিয়েছি”।

তবে ওই ওয়ার্ডের তৃণমূল প্রার্থী সুকুর আলির দাবী তিনি মির চঞ্চলকে চেনেন না। তিনি বলেন, “বিরোধী এজেন্টরা কেউ না থাকলেও সুষ্ঠু ভোটই হয়েছে। বুথ দখল বা ছাপ্পা ভোটের প্রশ্নই নেই”।

তবে তৃণমূল প্রার্থীর এই দাবী মানতে নারাজ বিরোধীরা। ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সিপিএম প্রার্থী নবকুমার মালিকের কথায়, “আমাদের এজেন্টকে বসতে দেয়নি ওরা। সম্পূর্ণ ছাপ্পা হয়েছে”।

আবার এই ঘটনায় বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর পাল বলেন, “সকালে এজেন্ট নিয়ে গিয়েছিলাম। এক বার ঢুকতে দিয়ে কিছুক্ষণের মধ্যে বের করে দেয়। সারাদিন ধরে ছাপ্পা দিয়েই বুথের ৯৫ শতাংশ ভোট হয়েছে”।

আগে পঞ্চায়েতের ভোটার হয়েও এ বার কেন পুরসভার ভোটার হলেন মির। তাঁর দাবী, “বিধানসভা ভোটে শহরের যে সব বুথে বিজেপি এগিয়ে ছিল, সেখানে আমাদের ভোটার করা হয়েছে। প্রার্থী এবং ব্লক নেতাদের আমাকে না চেনার কিছু নেই। ফের পঞ্চায়েত ভোটের সময় ভোটার কার্ড সংশোধন করে নেব”।

তৃণমূলের আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি রামেন্দু সিংহরায় বলেন, “কোথাও ছাপ্পা ভোট হয়েছে বা কেউ নিজের ভোট নিজে দিতে পারেননি বলে জানা নেই”।

RELATED Articles