আর জি করের ঘটনার প্রতিবাদে ছাত্র সমাজের ডাকা নবান্ন অভিযানের মিছিলে পুলিশের অত্যাচারের বিরুদ্ধে গতকাল, বুধবার ১২ ঘণ্টা বন্ধের ডাক দিয়েছিল বিজেপি। এদিনই এক মহিলা পুলিশ আধিকারিককে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠল এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। জামিন অযোগ্য ধারায় ওই নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হলেও এখনও অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে গোঘাটের পচাখালি এলাকায়। বুধবার বন্ধের সমর্থনে ওই এলাকায় পথ অবরোধ করে বিজেপি। পুলিশ আধিকারিকরা সেই অবরোধ তোলার চেষ্টা করছিলেন। সেই সময় গোঘাটে কর্তব্যরত এক মহিলা পুলিশ আধিকারিকের সঙ্গে বেশ বচসায় জড়ান গোঘাট ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ সঞ্জয় খান। মহিলা এসআই-য়ের সঙ্গে বেশ কথা কাটাকাটি হয় ওই তৃণমূল নেতার।
এই ঝামেলা প্রসঙ্গে ওই তৃণমূল নেতা জানান, “মহিলা পুলিশ অফিসার দাঁড়িয়ে থেকে পথ আটকে রেখেছেন। আমরা তো কামারপুকুরের দিকে যাচ্ছিলাম। সরকার যেখানে বলছে বনধ বিরোধী। তাহলে পুলিশ কীভাবে পথ আটকাতে পারে”? অভিযোগ, সেই সময় মহিলা পুলিশ আধিকারিকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন তৃণমূল নেতা। তাঁকে নিগ্রহের অভিযোগ করেছেন মহিলা পুলিশ আধিকারিক।
এই ঝামেলার কথা জেনে ঘটনাস্থলে পৌঁছন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। এর ফলে আরও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির তৈরি হয়। ঝামেলার কথা জেনেই সেখানে যান গোঘাট ১ নম্বর ব্লক তৃণমূল সভাপতি সঞ্জিত পাখিরা। তাঁর এই বিষয়ে বক্তব্য, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খবর পেয়ে যাই। পুলিশ প্রশাসন তাদের কাজ করেছে। দলে অনেক রকমের ছেলে রয়েছে। কেউ একটু চেঁচিয়ে ফেলতে পারে”।
আরও পড়ুনঃ এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দায়ের হল FIR, কোন কারণে অভিযোগ?
মহিলা পুলিশ আধিকারিক তৃণমূল নেতা সঞ্জয় খাঁকে আটক করার নির্দেশও দেন বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু অন্য এক পুলিশ আধিকারিক তাঁকে আটক না করেই ছেড়ে দেন। এরপরই থানায় অভিযোগ দায়ের করেন মহিলা পুলিশ আধিকারিক। তাঁর সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। তবে এখনও গ্রেফতার করা হয়নি ওই তৃণমূল নেতাকে।





