অমানবিক! ছেলেধরা সন্দেহে মহিলাকে বেঁধে রেখে বেধড়ক মা’র’ধ’র, নেতৃত্বে তৃণমূল নেতা, প্রবল চাঞ্চল্য এলাকায়

খু’ন থেকে শুরু করে মারধর, ধ’র্ষ’ণ বা চুরিডাকাতি কিছুই বাদ নেই রাজ্যে। সাম্প্রতিককালে রাজ্যে এই ধরণের ঘটনা বেশিই ঘটতে দেখা গিয়েছে। এর জেরে প্রশাসনিক মহলেও বেড়েছে উদ্বেগ। এরই মধ্যে মালদহ থেকে উঠে এল এক অপ্রীতিকর ঘটনার নিদর্শন।

কোথায় ঘটেছে এই ঘটনাটি?

ঘটনাটি ঘটেছে মালদহ শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের পুড়াটুলি জামতলিতে। সেখানেই ছেলেধরা সন্দেহে দিনের আলোয় প্রকাশ্য রাস্তায় ওক মহিলাকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল। ল্যাম্পপোস্টে দীর্ঘক্ষণ বেঁধে রাখা হয় ওই মহিলাকে, এমনটাই অভিযোগ। গোটা ঘটনার নেতৃত্বে তৃণমূল নেতা।

ঠিক কী ঘটেছিল?

সুত্রের খবর, এলাকার লোকজন এক মহিলাকে ছেলেধরা সন্দেহে পাকড়াও করেন। মহিলাকে ল্যাম্পপোস্টের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা তথা দলের জেলা সম্পাদক ছোটন মৌলিক। তাঁর সঙ্গে বেশ কিছু তৃণমূল কর্মী ছিলেন।

মহিলাকে ওই ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। সেই ঘটনার ভিডিও করেন তৃণমূল নেতা ও তাঁর সাগরেদরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে ইংরেজবাজার থানার পুলিশ। মহিলাকে উদ্ধার করে তারা। মহিলার নাম জানার চেষ্টা চলছে। গোটা ঘটনার তদন্ত করছে পুলিশ।  

এই ঘটনায় তৃণমূল নেতা ছোটন মৌলিক বলেন, “ওরা সব ছেলেধরা। হঠাৎ এখানে একজনের বাড়িতে ২ জন মহিলা ঢুকে পড়েন। বাচ্চা নেওয়ার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ে। বাড়ির লোকজন চেঁচামেচি করতেই ওরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তখনই আমরা একজনকে ধরে ফেলি। ওকে আটকে রাখি। ওর বাড়ি কোথায়, কোথা থেকে এসেছিল বলছে না। একজনকে আমরা ধরতে পারলেও একজনকে ধরা যায়নি। এখন ওকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। পুলিশকে তদন্ত করে দেখতে বলা হয়েছে”।

এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করা হয়েছে বিজেপির তরফে। ঘটনা প্রসঙ্গে মালদহের বিজেপির সহ-সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “প্রশাসনকে খবর দেওয়ার পরেও আইন নিজেদের হাতে তুলে নেওয়া কোনওভাবেই ঠিক নয়। বেঁধে রেখে মারধরের ঘটনা অমানবিক”।

RELATED Articles