‘আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহানুভূতিশীল, উনি সবটাই দেখবেন’, বকেয়া ডিএ-র দাবীতে আন্দোলনকারীদের বার্তা মানস ভুঁইয়ার

বকেয়া ডিএ মেটাতেই হবে রাজ্য সরকারকে। এই দাবী নিয়ে কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের একাংশ। সেই কর্মসূচি ব্যর্থ করতে আগেই প্রস্তুতি শুরু করেছে রাজ্য সরকার, আর এবার দল হিসেবে ময়দানে নামল তৃণমূল। তৃণমূলের কর্মচারী সংগঠনের চেয়ারম্যান মানস ভুঁইয়া বলেন ডিএ নিয়ে যে আন্দোলন হচ্ছে, তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বামেরা রয়েছে এর নেপথ্যে।

বকেয়া ডিএ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সরব হয়েছেন রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা। সদ্য রাজ্য বাজেটে ৩ শতাংশ ডিএ বাড়ানোর ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। কিন্তু তাতে মোটেই খুশি নন রাক্য সরকারি কর্মচারীদের একাংশ। ডিএ বাড়ানোর পরও কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ডিএ-র মধ্যে অনেকটাই ফারাক রয়েছে। রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের যৌথ মঞ্চের তরফে জানানো হয়েছে যে তাদের প্রাপ্য ডিএ না মেটালে আগামী ২০ ও ২১শে ফেব্রুয়ারি কর্মবিরতি রাখবেন তারা।

এর পালটা পদক্ষেপ করেছে নবান্নও। আগামী সোম ও মঙ্গলবার অর্থাৎ ২০ ও ২১ ফেব্রুয়ারি কর্মীদের সমস্ত ছুটি বাতিল করা হয়েছে রা‌জ‌্য সরকার। এই দু’দিন বা কোনও একদিন যারা কাজে আসবেন না, তাদের চাকরিজীবন থেকে একটি দিন বাদ যাবে বলে জানানো হয়েছে নবান্নের তরফে।

সরকারের সেই পদক্ষেপের পর এবার আসরে নেমেছে তৃণমূল। সরকারি কর্মচারীদের কোনওরকম প্ররোচনায় পা না দিয়ে কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানালেন মানস ভুঁইয়া। তাঁর কথায়, “আন্দোলনকারীরা অবস্থান প্রত্যাহার করুন। কাজে যোগ দিন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহানুভূতিশীল। তিনি সবটাই দেখবেন”।

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এও বিক্ষোভ হচ্ছে বলে দাবী মানস ভুঁইয়ার। তিনি বলেন, “আমরা ডিএ দেব না কখনওই বলিনি। অবশ্যই দেব। আর্থিক সংস্থান হলেই ডিএ দেব। মুখ্যমন্ত্রী সহানুভূতির সঙ্গে ভাবছেন সেটা। ৩৪ বছরের বিধ্বংসী বাম শাসনের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কয়েক লক্ষ কোটি টাকা ঋণের ভার নিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন। তা সত্ত্বেও তিনি ধীরে ধীরে এগোচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রী কখনওই বলেন না যে ডিএ দেব না। আমরা বেসিক স্যালারির সঙ্গে ডিএ কে সংযুক্ত করে দিয়েছি”।

এরপরই রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে তিনি বলেন, “রাজ্য সরকারি কর্মীরা কী কখনও ভেবেছেন যে কেন্দ্র সরকার রাজ্যের কত টাকা আটকে রেখেছে। আজ কেন্দ্র সরকার রাজ্য সরকারকে আর্থিকভাবে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। ১০০ দিনের কাজের টাকা আসছে না। জিএসটি ক্ষতিপূরণের টাকা পাচ্ছে না”।

RELATED Articles