‘তোমার ঘরেও টাকা ঢুকিয়ে দেওয়া হবে, দরজা ভালো করে এঁটে রাখো’, ‘বোন’ বলে পরামর্শ রুদ্রনীলের, অশালীন মন্তব্যের অভিযোগ তুলে রুদ্রনীলের বিরুদ্ধে এফআইআর রাজন্যার

একুশের জুলাইয়ের মঞ্চে বেশ ঝাঁঝালো বক্তব্য রেখে সকলের নজর কেড়েছিলেন ছিলেন। দলের অনেকেই যেন তাঁর মধ্যে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়া খুঁজে পান। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন তৃণমূলের ছাত্র পরিষদের নেত্রী রাজন্যা হালদার। এবার বিজেপি নেতা রুদ্রনীল ঘোষের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করলেন তিনি। অভিযোগ, তিনি নাকি অশালীন মন্তব্য করেছেন তাঁকে। গতকাল, শনিবার বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন রাজন্যা।

কী বলেছিলেন রুদ্রনীল?

এক সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজন্যাকে সতর্ক করে দেন রুদ্রনীল ঘোষ। তাঁকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, “রাজন্যা ‘বোন’কে বলি, খুব সাবধানে থাকো। নিজের ঘরের দরজাটা ভাল করে এঁটেল বন্ধ করে রেখো। তোমার ঘর কত বড়, সেখানে ১, ২ কোটি, ৫০ কোটি ঢোকানো যাবে কি না, তা দেখে নিচ্ছে। সেসব টাকা তোমার ঘরে ঢোকানো হবে। তবেই দলে তোমার জায়গায় পাকা হবে। এই মুহূর্তে তোমার কী কী আছে আর কী কী নেই, সেসব দেখা হচ্ছে। তোমার আশেপাশে দেবাংশুকে দেখে বুঝে নাও”।

রুদ্রনীলের সংযোজন, “এমনি এমনি ওই মঞ্চে ওঠা যায় না। অনেক কষ্ট করে ওঠা যায়। রাজন্যা বোনকে বলব, আপনার মধ্যে সম্ভাবনা খুঁজে পাওয়া গিয়েছে। খুব সতর্ক এবং সাবধান থাকবেন। আপনার ঘরের ভেতরে কতটা জায়গা আছে সেটা না জানলে ওরা টাকা ঢোকাতে পারবে না”।

রুদ্রনীলের এহেন মন্তব্যের বিরুদ্ধেই গতকাল, শনিবার সোনারপুর থানায় অভিযোগ জানান রাজন্যা। এদিন সন্ধ্যায় সোনারপুর থানায় এসে বিজেপি নেতা রুদ্রনীল ঘোষের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন তিনি।

কী অভিযোগ রাজন্যার?

তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মেয়েদের জন্য লড়াই করে যাচ্ছেন, নারী শক্তির উন্নয়নে তিনি সবসময়েই সচেষ্ট। থানায় অভিযোগ জানিয়ে রাজন্যা বলেন, “বিজেপি মা বোনেদের সম্মান করতে পারে না। মণিপুরে ওরা মহিলাদের উপর অত্যাচার করছে। সেই সংস্কৃতি এখানে নিয়ে আসতে চাইছে। কিন্তু বাংলায় এই জিনিস চলবে না”।

একজন শিল্পী হয়ে কীভাবে রুদ্রনীল ঘোষ এই কথা বলেন, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। তিনি এও জানান যে দলের নির্দেশেই থানায় অভিযোগ জানাতে এসেছেন তিনি। পুলিশ সূত্রে খবর, রাজন্যার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৫০০, ৫০৬, ৫০৯ ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে।

RELATED Articles