গতকাল, শুক্রবার রেশন দুর্নীতির তদন্ত করতে সন্দেশখালি ১-ব্লকের তৃণমূল সভাপতি এবং জেলা পরিষদের মৎস্য কর্মাধ্যক্ষের বাড়ি অভিযান চালান ইডি আধিকারিকরা। কিন্তু সেখানে গেলেই হামলা করা হয় আধিকারিকদের উপর। মাথা ফাটে আধিকারিকদের। কোনও মতে প্রাণ হাতে নিয়ে পালিয়ে বাঁচেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা।
এই শেখ শাহজাহানের সম্পত্তি খতিয়ান এবার খতিয়ে দেখল ইডি। কেন তদন্তে এত রাখঢাক? কেন এত বাধা? জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালের ১৪ জুন পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় কমিশনকে যে হলফনামা দিয়েছিলেন শাহজাহান, তা দেখে রীতিমতো চোখ ধাঁধিয়ে যাওয়ার জোগাড় তদন্তকারীদের।
কী কী সম্পত্তি রয়েছে ‘সন্দেশখালির বাদশাহে’র?
এই হলফনামা বলছে, শাহজাহানের নামে ব্যাঙ্কে ১ কোটি ৯২ লক্ষ ১২ হাজার টাকা রয়েছে। হলফনামা অনুযায়ী, সেই সময় তৃণমূল নেতার হাতে ছিল নগদ ২ লক্ষ টাকা। হলফনামাতেই বলা হয়েছে, তাঁর কাছে গয়না রয়েছে ২ কোটি ৩৯ লক্ষ টাকার। জমি রয়েছে ৪৩ বিঘা। বাজারদর ৪ কোটি টাকা।
এখানেই শেষ নয়, এছাড়াও তৃণমূল নেতার ১৭টি গাড়ি রয়েছে। পেশা হিসাবে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় শাহজাহান দেখিয়েছেন যে তিনি একজন ব্যবসায়ী। ব্যবসা থেকে তাঁর ১৯ লক্ষ ৮৩ হাজার ৮৩২ টাকা বাৎসরিক আয়। হলফনামায় অনুযায়ী, সরবেড়িয়ায় তাঁর পাকা বাড়ি রয়েছে যার বাজারমূল্য ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা। তবে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনও উল্লেখ করেন নি শাহজাহান তবে এই হলফনামায়।
কীভাবে উত্থান হয় এই শাহজাহানের?
জানা গিয়েছে, শেখ শাহজাহানের উত্থান বাম জমানার শেষ দিকে। এলাকাবাসীদের মতে, শেখ শাহজাহান এপার বাংলার নন। অনুপ্রবেশকারী তিনি। ওপার বাংলা থেকে এসেছেন। বাম জমানার শেষ দিকে স্থানীয় বিধায়ক অনন্ত রায়ের খুবই ঘনিষ্ঠ ছিলেন তিনই। শাহজাহানের বিরুদ্ধে কাঠ ও গরু পাচার তো বটেই, এমনকি, মানুষ পাচারেরও অভিযোগ রয়েছে। ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পর বাম বিধায়কের হাত মাথার উপর থেকে উঠে যায় শাহজাহানের। ফলে বিপাকে পড়েন তিনি। এরপর ২০১৬ সালে তৃণমূলে যোগ দেন শাহজাহান। তারপর থেকেই আরও উন্নতি শুরু হয় নেতার।





