সদ্যই শেষ হয়েছে উপনির্বাচন। রাজ্যের ৬ কেন্দ্রেই ছক্কা হাঁকিয়েছে শাসক দল তৃণমূল। বিরোধীদের কার্যত ধূলিসাৎ করে দিয়েছে মমতার দল। এর ফলে দলে এখন তুমুল উচ্ছ্বাস। এসবের মধ্যেই বিরোধীদের উদ্দেশে বেলাগাম হুঁশিয়ারি শানিয়ে তুমুল বিতর্কে জড়ালেন মালদহ জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সি।
গতকাল, রবিবার উপনির্বাচনে তৃণমূলের এই সাফল্য উদযাপন করার জন্য বিজয় উৎসব পালন করা হয় মালদহ জেলা তৃণমূল কার্যালয়ে। সেখানেই একে অপরকে মিষ্টি খাইয়ে, সবুজ আবির মাখিয়ে উল্লাসে মাতেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। সেই সময়ই দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে মন্তব্য রাখেন আব্দুর রহিম বক্সি। এরই সঙ্গে বিরোধীদেরও হুমকি দেন তিনি।
আব্দুর রহিম বক্সি বলেন, “বাংলার মানুষ যে দিদির পক্ষে, তৃণমূলের পক্ষে, সেটা আবার প্রমাণিত। লোকসভার দু’টি আসন মানুষকে ভুল বুঝিয়ে জিতে নিয়েছে বিরোধীরা। ২০২৬–এর বিধানসভায় সেটাও প্রমাণ দিয়ে দেব”।
এখানেই শেষ নয়, বিরোধীদের শানিয়ে তৃণমূল নেতা বলেন, “কিন্তু বিজেপি ও তাদের দোসর সিপিএম-কংগ্রেসের, যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতা করে কটূ কথা বলছেন, তাঁরা মুখ বন্ধ না করলে, ৩২টি দাঁত ভেঙে গুঁড়িয়ে দেব। জিভ টেনে ছিঁড়ে ফেলে দেব”। এরপর সাংবাদিকদের সামনেও ফের এই একই মন্তব্য করে তিনি বলেন যে তিনি ভুল কিছু বলেন নি।
তবে তৃণমূল নেতার এহেন হুমকির জেরে বেজায় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের দাবী, তৃণমূলের রুচি, শিক্ষা এরকমই। এই বিষয়ে মালদহ দক্ষিণের কংগ্রেস সাংসদ ঈশা খান চৌধুরী বলেন, “এ সব অসংসদীয় কথাবার্তা বড্ড নিম্নরুচির পরিচায়ক। অথচ উনি একটা দলের জেলা সভাপতি। তখন ভাবতে হবে যে, উনি সুস্থ রাজনীতি করতে চাইছেন, নাকি অন্য কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে! মালদার মানুষ যে এ সব পছন্দ করেন না, সেটা তো লোকসভায় প্রমাণিত হয়েছে”।
অন্যদিকে আবার দক্ষিণ মালদহের বিজেপি সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক অম্লান ভাদুড়ি বলেছেন, “বেশ কিছু দিন ধরেই উনি কুরুচিকর, হুমকিমূলক কথাবার্তা বলে যাচ্ছেন। মালদায় এই সংস্কৃতি ছিল না। প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত”।
আবার বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী এই প্রসঙ্গে বলেন, “জেলা সভাপতি যা বলেছেন, সেটা ওঁর ব্যক্তিগত মতামত, দলের বক্তব্য নয়। আর ওঁর বক্তব্য নিয়ে রাজ্য নেতৃত্বই বিবেচনা করতে পারেন। জেলা থেকে আমাদের কিছু বলার নেই”।





