চলছিল দুয়ারে সরকার শিবির। আমজনতাও জড়ো হয়েছিলেন শিবিরে। সরকার প্রকল্প এনেছে মানুষের সুবিধার্থে। কিন্তু এবার সেই সুবিধা নেওয়ার জন্যই কার্যত হুমকি শুনতে হল সাধারণ জনগণকে। কাটিয়াহাটের ব্লক তৃণমূল সভাপতি বলেন, “সরকারের সুবিধে নিলে সরকারকেও দেখতে হবে। যদি অন্য দলকে সমর্থন করেন, পরিষেবাও অন্য দল থেকে নিতে হবে”। এই মন্তব্যকে ঘিরে সুর চড়িয়েছে বিরোধীরা।
গতকাল, শনিবার উত্তর ২৪ পরগনার কাটিয়াহাটে একটি স্কুলের মাঠে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-সহ রাজ্য সরকারের নানা সামাজিক ও উন্নয়মূলক প্রকল্পের নাম নথিভূক্তকরণের জন্য ‘দুয়ারে সরকার’ প্রকল্পের কাজ চলছিল। সেখানেই ছিলেন তৃণমূলের কাটিয়াহাটের ব্লক সভাপতি প্রকাশ সরদার।
এদিন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মহিলাদের রীতিমতো শাসিয়ে প্রকাশ সরদারের বলেন, “পাবলিককে মনে করিয়ে দিচ্ছি, মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর পরিষেবার অনুদান নেবে, অথচ পরিষেবার ক্ষেত্রে যেটা করার দরকার, সেটা করবে না, সেটা কিন্তু চলবে না”।
এখানেই শেষ নয়। হুমকির সুরেই তাঁকে বলতে শোনা যায়, “লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছেন তো? মুখ্যমন্ত্রীর কথা মনে রাখতে হবে। সামনে পঞ্চায়েত ভোট, দিদির কথা কিন্তু মনে রাখতেই হবে। বলতে হয় না যেন, আর একটা লোকও যেন বাকি না থাকে”।
এহেন মন্তব্যের জন্য বিতর্কের মুখে পড়লে, ব্লক সভাপতি সাফাই দিয়ে বলেন, “সরকারকে রাখার জন্যই এসব। সরকারের অনুদান নিলে সরকারের পক্ষে তাঁদের সমর্থন করতে হবে। এটাই আমার শেষ কথা। যেখানে খাবে, সেখানে যাবে, আমাদের কোনও আপত্তি নেই। খাবে একজনের, গুন গাইবে অন্যজনের সেটা কিন্তু আমরা শুনব না”।
তৃণমূল নেতার এমন বক্তব্যকে ঘিরে এলাকায় বেশ শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বসিরহাটের বিজেপির যুব সভাপতি পলাশ সরকার। তাঁর কথায়, “একটি সরকারি কর্মসূচিতে গিয়ে কিভাবে রাজনৈতিক প্রচার চালাতে পারেন ব্লক সভাপতি ? কিভাবে জনগণকে হুঁশিয়ারি দেওয়া যায়”।





