ফের প্রকাশ্যে তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্ব। তারকা বিধায়ক চিরঞ্জিত চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে এবার সরব হলেন দলেরই নেতা। চিরঞ্জিতকে তোপ দেগে বারাসাত সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল মুখপাত্র সুনীল মুখোপাধ্যায় বলেন, “বারাসাতের জন্য বাড়তি কোনও উদ্যোগ নেন নি তিনবারের বিধায়ক”।
কী ঘটেছে ঘটনাটি?
গত বৃহস্পতিবার বারাসতের জেলা পরিষদ ভবনের তিতুমির সভাকক্ষে তৃণমূলের কোর কমিটির বৈঠক হয়। তৃণমূলে সূত্রে খবর, কোর কমিটির বৈঠকে অশোকনগরের বিধায়ক নারায়ণ গোস্বামী দাবী করেন যে বারাসতে নাগরিক পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে খামতি রয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে রবিবার বারাসতের বিধায়ক চিরঞ্জিত চক্রবর্তী বলেন, “উনি (নারায়ণ গোস্বামী) অশোকনগর নিয়ে যতটা না ব্যস্ত, তার থেকে বেশি ব্যস্ত বারাসত নিয়ে। হয়তো এখানে কোনও মধু আছে। আগামী বিধানসভা ভোটে বারাসত থেকে হয়তো উনি টিকিট নেওয়ার চেষ্টা করছেন”।
এ নিয়ে গতকাল, সোমবার সন্ধ্যায় মুখ খোলেন বারাসত পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের মুখপাত্র সুনীল মুখোপাধ্যায়। তাঁর আক্রমণ, “আমি বারাসত পুরসভার ১০ বছরের চেয়ারম্যান এবং দু’বছর অ্যাডমিনিস্ট্রেটর ছিলাম। এই ১২ বছরে বারাসতে কী মধু আছে আমি বুঝতে পারিনি। পুরসভার দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে দেখেছি বিধায়ক তহবিলের টাকা খরচ করে কাজ করা ছাড়া উনি (চিরঞ্জিত চক্রবর্তী) বারাসতের জন্য কোনও কাজ করেননি। বারাসতের সাংসদ ডাঃ কাকলি ঘোষ দস্তিদার বাড়তি উদ্যোগ নিয়ে অনেক কাজ করেছেন, কিন্তু বারাসতের বিধায়ক সেটা করেননি”।
একইসঙ্গে সুনীলের সংযোজন, “নারায়ণ গোস্বামী দল করে, বারাসতে ওঁর বাড়ি। তাই বারাসতে টিকিট পাওয়ার প্রত্যাশা থাকতেই পারে। এতে ওনার (চিরঞ্জিত চক্রবর্তী) বলার কী আছে। টিকিট চাইলেই যে পেয়ে যাবে এমনটাতো হয় না। কারণ কে টিকিট পাবেন তা দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঠিক করেন”।
এই প্রসঙ্গে চিরঞ্জিত চক্রবর্তী বলেন, “মুখপাত্র তার কথা বলতেই পারেন। তবে, আমি যেটা বলেছি ঠিকই বলেছি। এটাই আমার চূড়ান্ত কথা”।





