সাদা খাতা জমা দিয়েই শিক্ষিকার চাকরি তৃণমূল নেতার স্ত্রীর, লক্ষাধিক টাকায় বিক্রি সরকারি চাকরি, চরম বিপদের মুখে শাসকদল

বর্তমানে এখন রাজ্য ও রাজনীতি পার্থ-কাণ্ড নিয়েই উত্তাল। প্রাক্তন মন্ত্রীকে এসএসসি দুর্নীতির জেরে গ্রেফতার করেছে ইডি। তাঁর ঘনিষ্ঠ বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের ফ্ল্যাট থেকে মোট ৫০ কোটি টাকা ও তাল তাল সোনা-রুপো উদ্ধার হয়েছে। সেই টাকা আসলে কার? ইডির জেরায় অর্পিতা বলেছেন যে এই টাকা নাকি আসলে পার্থর। অন্যদিকে, আবার পার্থর দাবী, এই টাকা তাঁর নয়।

কোথা থেকে এল এই টাকা? আসলে কার টাকা এগুলো? অন্যদিকে, মেয়ো রোডে গত ৫০০ দিনের বেশি সময় ধরে আন্দোলন করছেন এসএসসি চাকরিপ্রার্থীরা। তাহলে কী তাদের যোগ্য চাকরিই অন্যকে দিয়ে এই টাকা এসেছে? চাকরি চুরির টাকাই লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। ইডি যখন এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে, সেই সময় উত্তরবঙ্গ থেকে ভাইরাল হল একটি তালিকা যা নিয়ে বেশ শোরগোল পড়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এই তালিকায় উঠে এসেছে জলপাইগুড়ির তৃণমূলের ১২ জন নেতার নাম। এই তালিকায় রয়েছে জলপাইগুড়ি শিক্ষা সেলের নেতা সুদীপ মল্লিকের নাম। অভিযোগ, ২০১৭ সালে তাঁর স্ত্রী রুমা মল্লিক টেট পরীক্ষা দিয়েছিলেন। কিন্তু পরীক্ষায় সাদা খাতাই জমা দেন তিনি। কিন্তু স্বামীর প্রভাবের জেরে ধূপগুড়ি প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষিকা হিসেবে নিযুক্ত হন এই রুমা মল্লিক।

জলপাইগুড়ির জেনারেল DYFI সম্পাদক নির্মাল্য ভট্টাচার্য বলেন, “সবই টাকার খেলা। তালিকায় দেখলাম সুদীপ মল্লিকের নাম আছে। শাসকদলের নেতার স্ত্রী রুমা মল্লিক ও তার ছেলেমেয়েরাও চাকরি পেয়েছে তারই কারসাজিতে। সাদা খাতা দিয়েও লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে কেনা বেচা হয়েছে সিট”।

সাদা খাতা জমা দিয়েই শিক্ষিকার চাকরি তৃণমূল নেতার স্ত্রীর, লক্ষাধিক টাকায় বিক্রি সরকারি চাকরি, চরম বিপদের মুখে শাসকদল

এই ঘটনার সত্যতা যাচাই করার জন্য উক্ত প্রাথমিক স্কুলে পৌঁছয় সংবাদমাধ্যম। সেখানকার আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলার ও প্রশ্ন করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু এই বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ সকলেই।

বিজেপি বিধায়ক বিষ্ণুপদ রায় এই প্রসঙ্গে বলেন, “সারা বাংলা জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে দুর্নীতি ও চাকরি চুরির ঘটনা। ১০ লক্ষ, ১৫ লক্ষ, ২০ লক্ষ টাকায় বিক্রি হয়েছে সরকারি চাকরি। শুধু পার্থ চট্টোপাধ্যায় নয় এর পিছনে আরও অনেক নেতা-নেত্রী জড়িয়ে রয়েছে”।

এই ঘটনায় অভিযুক্ত রুমা মল্লিকের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে সংবাদমাধ্যম। কিন্তু তা করা সম্ভব হয়নি। তাঁর স্বামী তথা শাসক দলের নেতা এই বিষয়ে বলেন, “যা রটেছে সবই ভুল এবং ভিত্তিহীন, আমার স্ত্রী টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন এবং তারপর ভাইবা দিয়েই চাকরি পেয়েছেন, মিথ্যা রটনা করে তৃণমূলকে বদনাম করার জন্যই এই সব ঘটনা সাজানো হয়েছে। সবই ষড়যন্ত্র”।

অন্যদিকে আর এক তৃণমূল নেতা রাজেশ কুমার সিং এই প্রসঙ্গে বলেন, “ইডি তদন্ত করছে তদন্তে যা বেরিয়ে আসবে তাই দল মেনে নেবে। দল নিজে স্ট্যান্ডে ঠিকই আছে। আর আমাদেরও পার্টিগত ভাবে স্ট্যান্ড ঠিক আছে। অন্যায়ের সাথে কোন আপোষ হবে না এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।

আরও অন্যান্য খবর