তৃণমূলের যেন গুন্ডারাজ চলছে রাজ্যজুড়ে। ভোট পরবর্তী হিংসার মামলার তদন্ত করছে সিবিআই ও সিট। এরই মধ্যেই এর শাসকদলের বিরুদ্ধে উঠে এল চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। বিজেপি কর্মীকে বলা হল জমি যদি না লিখে দেয় তাহলে তাঁর মৃত মায়ের দেহ দাহ করতে দেওয়া হবে না।
ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথিতে। জানা গিয়েছে, গতকাল, বুধবার বিজেপি করার ’অপরাধে’ মারধর ও লুটপাট করা হয় নাড়ু গুড়িয়া নামের এক ব্যক্তিকে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার উত্তর কাঁথি এলাকাত কুলঞ্জরা গ্রামের বাসিন্দা তিনি।
আরও পড়ুন- ‘চড় মেরে থাকলে ঠিক করেছে, হোমগার্ডকে থাপ্পড় মারার ঘটনায় বিজেপি নেতাকে সমর্থন দিলীপ ঘোষের
স্থানীয় সূত্রে খবর, নাড়ু গুড়িয়া দীর্ঘদিন সিপিএম করতেন। ২০১১ সালে বিধানসভা ভোটের পর দশ বছর ধরে রাজনৈতিক অত্যাচারে ঘরছাড়া। একটি ছেলে কৌশিক গুড়িয়া ও মেয়ে আরতি গুড়িয়া ও তাঁর মা সরস্বতী গুড়িয়াকে নিয়ে ওই গ্রামেই থাকতেন। তারপর থেকে সিপিএম পরিবার বিজেপি করত। নাড়ু গুড়িয়া সক্রিয় বিজেপি কর্মী বলে পরিচিত। তাঁর বাড়ির আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ।
কার্যত খেতে না পেয়ে অনাহারে দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর মৃত্যু হয় নাড়ু গুড়িয়ার মা কমলা দেবীর। কিন্তু অভিযোগ, তাঁর মায়ের দেহ সৎকার করতে বাধা দেয় তৃণমূলের লোকেরা। এমনকি বিজেপি করার অপরাধে তাঁকে এক বিঘা জমি লিখে দিতে হবে বলে চাপ দিতে থাকে স্থানীয় তৃণমূল নেতা। কিন্তু ওই ব্যক্তি সেইমতো কাজ না করায় রাতে গ্রামের সালিশি সভা বসিয়ে ওই বিজেপি কর্মীকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। তিনি গুরুতর আহত হয়ে কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এই ঘটনার প্রসঙ্গে কাঁথি দেশপ্রাণ পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূলের সহ সভাপতি তরুণ জানা বলেন, “এমন ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা। যে বা যারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে দল অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে। রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়ের গতি তে কেউ কেউ গা ভাসিয়ে অতি তৃণমূল হওয়ার চেষ্টা করছে দল এটা সমর্থন যোগ্য নয়। আর কিছু অপপ্রচার করাও হচ্ছে”। তরুণবাবু আশ্বাস দেন যে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনায় কাঁথি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অনুপ চক্রবর্তী বলেন, “সর্বত্রই অরাজকতা চলছে। তাই খুন সন্ত্রাসের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়েছে শাসক দল। আশাকরি মানুষ জাগ্রত হবে এবং এই অরাজকতার প্রতিবাদ করবে”।





