যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University) বরাবরই ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রস্থল। শনিবার বিকেলেও তার অন্যথা হল না। শিক্ষা মন্ত্রী ব্রাত্য বসু (Bratya Basu) ক্যাম্পাসে ঢুকতেই শুরু হয় প্রবল বিক্ষোভ। এসএফআই (SFI) এবং অন্যান্য বাম ছাত্র সংগঠনের সদস্যরা শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে স্লোগান তোলেন, মন্ত্রীর গাড়ি আটকে বিক্ষোভ দেখান। পরিস্থিতি মুহূর্তের মধ্যে হাতের বাইরে চলে যায়, অভিযোগ, ধাক্কাধাক্কির মাঝে শিক্ষামন্ত্রীর গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। অন্যদিকে, বিক্ষোভরত ছাত্রদের ওপর দিয়েই মন্ত্রীর কনভয় চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনার পরই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তৃণমূল (TMC) দাবি করেছে, পরিকল্পিতভাবে শিক্ষামন্ত্রীর ওপর হামলা চালিয়েছে বাম ছাত্র সংগঠনগুলি। অন্যদিকে, বাম ছাত্রদের পাল্টা অভিযোগ, তাঁদের আন্দোলনকে দমন করতে গাড়ি তুলে দেওয়া হয়েছে। এই সংঘর্ষে দু’জন বাম ছাত্র গুরুতর আহত হয়েছেন। একজন ইন্দ্রানুজ রায়, যিনি অতি বামপন্থী সংগঠন আরএসএফের সদস্য। অভিযোগ, শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ির চাকায় তিনি গুরুতর জখম হন। অন্যজন এসএফআইয়ের সদস্য অভিনব বসু (Abhinabha Basu), যাঁর পায়ের ওপর দিয়ে অধ্যাপক ওমপ্রকাশ মিশ্রের গাড়ি চলে গিয়েছে বলে অভিযোগ। দু’জনকেই প্রথমে কেপিসি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অভিনবকে কিড স্ট্রিটের ইরান সোসাইটিতে স্থানান্তরিত করা হয়।
এই ঘটনার সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হল, আহত এসএফআই সদস্য অভিনব বসু আদতে একজন তৃণমূল নেতার ছেলে! তিনি সাঁকরাইল ব্লক তৃণমূল সভাপতি অমৃত বসুর ছেলে বলে জানা গিয়েছে। সাধারণত তৃণমূল নেতাদের সন্তানরা একই রাজনৈতিক আদর্শ অনুসরণ করেন, কিন্তু একজন শাসকদলের নেতার ছেলে সক্রিয়ভাবে বামপন্থী রাজনীতিতে যুক্ত—এমন ঘটনা বিরল। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, বাবার দল ক্ষমতায় থাকলেও ছেলে কেন সরকারবিরোধী আন্দোলনের সামনের সারিতে?
এই প্রসঙ্গে অমৃত বসুকে ফোন করা হলে তিনি ছেলের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সরাসরি স্বীকার করতে চাননি। তিনি বলেন, “আমার ছেলে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে, হস্টেলেই থাকে। পড়াশোনার বাইরে ও আর কিছু করে কি না, আমি জানি না।” তবে স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক প্রিয়া পালও বিষয়টি নিয়ে সম্পূর্ণ অনভিজ্ঞতার কথা জানান। সব মিলিয়ে, এই ঘটনা তৃণমূল শিবিরে অস্বস্তি তৈরি করেছে।
আরও পড়ুনঃ দার্জিলিঙে তুষার, কলকাতায় রোদ! আবহাওয়ার এমন খামখেয়ালিপনায় কী বলছে IMD?
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা চরমে উঠেছে। বাম ছাত্র সংগঠন দাবি করেছে, শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ির চাকায় ছাত্র আহত হওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন। তাঁরা এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছে। অন্যদিকে, তৃণমূল অভিযোগ করেছে, পরিকল্পিতভাবে শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ি ঘিরে হামলা চালানো হয়েছে। এখন দেখার, এই সংঘর্ষের তদন্তে নতুন কী তথ্য উঠে আসে এবং তৃণমূল কিভাবে এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সামাল দেয়।





