থমথমে যাদবপুর! TMC অফিসে আগুন, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে একের পর এক FIR!

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University) ফের উত্তপ্ত! শনিবার শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু (Bratya Basu) ক্যাম্পাসে এলে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। আন্দোলনকারীরা তাঁর গাড়ি ঘিরে ধরে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের দাবি জানান। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়, চলে স্লোগান। এরপর ঘটে একের পর এক বিস্ফোরক ঘটনা। অভিযোগ, শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন এক ছাত্র। অন্যদিকে, রাতের অন্ধকারে বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃণমূল পরিচালিত শিক্ষাবন্ধু সমিতির অফিসে আগুন লাগানোর অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যে ৫টি FIR দায়ের হয়েছে, গ্রেফতার করা হয়েছে এক DYSA কর্মীকে।

রবিবার সকাল থেকে থমথমে যাদবপুর ক্যাম্পাস। চারদিকে ছেঁড়া ব্যানার-পোস্টার, আন্দোলনের চিহ্ন স্পষ্ট। কিন্তু সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয়—তৃণমূলের শিক্ষাবন্ধু সমিতির অফিস থেকে এখনও ধোঁয়া বেরোচ্ছে! অভিযোগ, শনিবার রাতে ফের সেখানে আগুন লাগানো হয়েছিল। আগুন দেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তারক্ষীরা নেভানোর চেষ্টা করেন, পরে ঘটনাস্থলে দমকল আসে। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও প্রশ্ন উঠছে—কে বা কারা এই অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত? অন্যদিকে, পুলিশের তৎপরতায় তদন্ত নতুন মোড় নিচ্ছে।

বিক্ষোভের সময় শিক্ষামন্ত্রীর কনভয় জোর করে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ঘটে দুর্ঘটনা। প্রথম বর্ষের ছাত্র ইন্দ্রানুজ রায় গুরুতর আহত হন। তিনি অতিবাম ছাত্র সংগঠন RSF-এর সদস্য। তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সিটি স্ক্যানের রিপোর্ট অনুযায়ী, মাথায় গুরুতর চোট না লাগলেও চোখ ও শরীরের একাধিক অংশে আঘাত রয়েছে। অন্যদিকে, শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুও বিক্ষোভের ধাক্কায় অসুস্থ হয়ে পড়েন, রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ায় তাঁকেও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

এই ঘটনার পর পুলিশ কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে। ইতিমধ্যে ৫টি FIR দায়ের হয়েছে এবং DYSA-এর কর্মী সাহিল আলি-কে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগ, শনিবারের ঘটনায় তিনি যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি, অধ্যাপকদের মারধর ও শিক্ষাবন্ধু সমিতির অফিসে আগুন লাগানোর ঘটনার তদন্ত চলছে। ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কারা এই ঘটনার পেছনে, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।

আরও পড়ুনঃ TMC সভাপতির ছেলে SFI-এর সক্রিয় কর্মী! শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ি ধাক্কা মারল বাম ছাত্রকে? যাদবপুর কাণ্ডে তোলপাড় রাজনীতি!

এই ঘটনায় তৃণমূল ও বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের মধ্যে সংঘাত চরমে পৌঁছেছে। SFI-এর দাবি, সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে আন্দোলন দমন করতে শিক্ষার্থীদের ওপর গাড়ি চালিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূলের দাবি, শিক্ষামন্ত্রীর ওপর পরিকল্পিত হামলা হয়েছে। এরই মধ্যে, সোমবার ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে SFI। ফলে যাদবপুরের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে, যা রাজ্যের রাজনৈতিক আবহকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles