সরাসরি সম্প্রচারে বেফাঁস মন্তব্য তৃণমূল নেতা, নেত্রীদের! আমরা ভেতরে যা বাইরেও তাই! এই স্বচ্ছতাই কি এবারের ‘স্ট্র্যাটেজি’? ফাঁস হাঁড়ির খবর

বিধানসভা ভোটের আর বাকি মাত্র ৬ মাস। বাংলার মসনদ জিততে উঠে পড়ে লেগেছে শাসক এবং বিরোধী দুই পক্ষই। চাপ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন দুই দলের নেতা-নেত্রীরাই। সম্প্রতি দিনহাটায় একটি কর্মীসভায় দলের হাঁড়ির খবর দিয়ে দলকে বিপাকে ফেলছিলেন তৃণমূলের (All India Trinamool Congress) বিধায়ক উদয়ন গুহ (Udayan Guha)। সোশ্যাল সাইটে ব্যাপক ভাইরাল হয় তাঁর মন্তব্য।

কি বলেছিলেন উদয়ন গুহ? উক্ত কর্মীসভায় ওই তৃণমূল নেতা বলেন ‘এতদিন অনেক খেয়েছেন, আগামী দিনেও অনেক খাওয়ার সুযোগ পাবেন। তাই এই ছয়মাস খাওয়া বন্ধ রাখুন।‘
আর এবার উদয়নের তালিকায় নাম লেখালেন সৌগত রায়। “যাদের সামনে রেখে নির্বাচন করা হবে, তাঁরা যেন তোলাবাজ না হয় দেখতে হবে। পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তিকে সামনে রেখে নির্বাচন করতে হবে।” দমদম বিধানসভা কেন্দ্রে দলীয় সম্মেলনে গতকাল এমন কথা-ই বলেছেন সৌগত রায়। আর তারপরই ফের নতুন করে উস্কে উঠেছে বিতর্ক।

বারবার এই সমস্ত দুঁদে রাজনীতিকরা কেন‌ও এমন বেফাঁস মন্তব্য করছেন? বোধগম্য হচ্ছে না অনেকেরই। কারণ সামনেই তো বিধানসভা ভোট। সর্তকতা অবলম্বনের সঠিক সময় তো এটাই।

কিন্তু অদ্ভুতভাবে দলীয় সভায় মাঝে মাঝেই ‘বেলাগাম’ হতে দেখা যাচ্ছে তৃণমূল নেতা-মন্ত্রীদের। বেশ কিছু জায়গাতেই তাঁরা এমন কিছু বলছেন, যা দলকে খুব‌ই বিব্রত করছে। এই তালিকায় নাম রয়েছে অনুব্রত মণ্ডল, উদয়ন গুহ, বেচারাম মান্না, প্রবীর ঘোষাল, অপরূপা পোদ্দারসহ অনেকের‌ই। ‘বেফাঁস’ মন্তব্যের সঙ্গে কখনো কখনো মুখ দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে ‘কটু কথা’ও। শাসক দলের নেতা মন্ত্রীদের এমন কথায় শুরুর দিকে চমকালেও এখন প্রায় গা-স‌ওয়া হয়ে গেছে আমজনতার।

তাৎপর্যপূর্ণভাবে বেশকিছু জায়গায় নেতা-নেত্রীদের এই বক্তব্য তো সরাসরি লাইভ সম্প্রচার করা হচ্ছে! এতে পার্টির ইমেজে যথেষ্ট আঘাত লাগতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু তারপরেও শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে তাঁদের উদ্দেশে কেন‌‌ও কোনও কড়া বার্তাও নেই। প্রশ্ন উঠছে!

তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে হতে পারে আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগেই এটাই মমতা বন্দোপাধ্যায় এর দলের স্ট্রাটেজি। আমরা পিছনে যা সামনেও তাই। অর্থাৎ স্বচ্ছতাই আমাদের হাতিয়ার। আর এই অদ্ভুতরূপ স্বচ্ছতাকেই হাতিয়ার করে এগোতে চাইছে শাসক শিবির। তাই যে যা বলছে, তা সবাই সামনেই দেখুক, এমনটাই ভাবা হয়েছে। সবাই বলার সুযোগ পাচ্ছে। দল স্বচ্ছ। সবার কথা সমানভাবে বলার সুযোগ দেওয়া হয়। এই ভাবমূর্তিই জনমানসে তুলে ধরতে বা দেখাতে চাইছে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। তবে এখন দেখার দলের স্বচ্ছতা তৃণমূলকে গতিতে পুনরায় বসায় না হটায়!

RELATED Articles