এর আগে জুনিয়র চিকিৎসকদের আন্দোলনকে নানান তৃণমূল নেতা নানাভাবে কটাক্ষ করেছেন। দেবাংশু ভট্টাচার্য থেকে শুরু করে কুণাল ঘোষ, একের পর পর নেতারা নানান আক্রমণাত্মক উক্তি করেছেন। কিন্তু নিজেদের আন্দোলনে এর প্রভাব পড়তে দেন নি জুনিয়র চিকিৎসকরা। এবার ফের তাদের আন্দোলনকে কটাক্ষ চুঁচুড়ার তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদারের।
গতকাল, রবিবার চুঁচুড়ার রবীন্দ্র ভবনে আয়োজন করা হয়েছিল তৃণমূলের বিজয়া সম্মিলনীর। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক অসিত মজুমদার। সেই অনুষ্ঠান থেকেই চিকিৎসকদের আক্রমণ করে তিনি বলেন, “যে ডাক্তাররা বড় বড় কথা বলছে, তাদের নিজেদের পিছনটা দেখছে না। রোগী দেখে তার ভিজিটের কোন স্লিপ দেয় না। তাঁরা ইনকাম ট্যাক্স ফাঁকি মারছে। হসপিটালে ডিউটি করে না। বাইরে গিয়ে ডিউটি করে। এরা হসপিটালের রোগী অপারেশন করে না। তারাই আন্দোলন করছে। মানুষকে জ্ঞান দিচ্ছে। সেই জ্ঞান শুনতে হবে”।
এখানেই শেষ নয়, তিনি আরও বলেন, “আমরা মানুষকে এসব কথা বলবো। এদের লজ্জা হওয়া উচিত এরা এক একটা ডাকাত। এই ডাকাতদের জন্য মানুষ সর্বস্ব হারাচ্ছে। তারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলে। এক কোটি ৭০ লক্ষ টাকা একটা আন্দোলনের ফান্ডে উঠে গেল? কারা দিল? কী করে হলো? বড় বড় কথা বলছে। আমরা আন্দোলনে নামবো। ওরা একটা মৃত্যুর বিচার চাইছে। আমরা ওই একটা মৃত্যুর বিচার চাইছি পাশাপাশি যত মানুষ এই সময় মারা গেছে বিনা চিকিৎসায় তাদেরও বিচার চাইব”।
তৃণমূল বিধায়কের এহেন মন্তব্যের প্রেক্ষিতে পাল্টা জবাব দিয়ে চিকিৎসক সংগঠনের নেতা উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যাঁরা এই কথাগুলি বলছেন, তাঁদের অপদার্থতার জন্য তিলোত্তমার মতো ঘটনা ঘটেছে। তাঁরা যদি সঠিক সময়ে ব্যবস্থা নিতেন তাহলে এই ঘটনা ঘটত না”।
আরও পড়ুনঃ ‘আমিই দলকে বলেছিলাম উপনির্বাচনে লড়ব না, আমি বাংলার কোনও দায়িত্বে নেই…’, অভিমান করেই কী বাংলা থেকে নিজেকে দূরে সরাচ্ছেন দিলীপ?
প্রসঙ্গত, এর আগে নানান তৃণমূল নেতারাই জুনিয়র চিকিৎসকদের নানান কটাক্ষ করেছেন। তাদের আন্দোলনকে হেয় করেছেন। তৃণমূল নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য যেমন জুনিয়র চিকিৎসকদের একদিকে মাওবাদীদের সঙ্গে তুলনা করেছেন, তেমনই আবার কুণাল ঘোষ জুনিয়র চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে এফআইআর করারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন অসিত মজুমদারও।





