তৃণমূলের অন্দরে গত কয়েকদিন ধরেই নবীন-প্রবীণ তত্ত্ব নিয়ে বারবার দ্বন্দ্বের কথা উঠে আসছে। একদিকে প্রবীণ নেতারাও ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নন, আবার অন্যদিকে নবীন নেতাদের নিয়েও উঠছে নানান কথা। এরই মাঝে এবার ফের একবার তৃণমূলে নবীন-প্রবীণ তত্ত্ব নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তৃণমূল বিধায়ক নারায়ণ গোস্বামী।
আজ, মঙ্গলবার অশোকনগরের কল্যাণগড় সংস্কৃতি সংঘ শিক্ষা নিকেতন স্কুলের পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে বেরিয়েই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিধায়ক বলেন, “প্রবীণদের পরামর্শ নিয়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাবে যুবরা। সেটাই তো পার্টি। যুবদের এনার্জি অনেক বেশি। ধরুন, আপনার ফোনে সফটওয়্যার আপডেট নেই। তাহলে তো হোয়াটসঅ্যাপ চলবে না”। তাঁর কথায়, ”অভিষেকের মতো পরিশ্রমী নেতা আমি দেখিনি”।
এই নবীন-প্রবীণ বিতর্কের মধ্যে নবীনদেরই এগিয়ে রাখলেন তৃণমূল বিধায়ক। তাঁর কথায়, “সিপিএমের যেমন নীতি যে দেহত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত পদত্যাগ নয়। এখানে তেমন নয়। প্রবীণদের গঠনমূলক পরামর্শ নিয়ে নবীনরা দলকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এটাই পার্টি। সফটওয়্যার আপডেট না থাকলে তো হোয়াটসঅ্যাপ চলবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজ আজকের প্রযুক্তির মাধ্যমে গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়বে। আর সেই কাজ করতে পারবে যুবরা। আমি এতদিন ধরে তৃণমূল করছি, অভিষেকের মতো পরিশ্রমী দেখিনি। ৫৫ দিন ধরে গোটা রাজ্যজুড়ে নবজোয়ার কর্মসূচি ও করেছে সমান এনার্জি নিয়ে। আর যুবরা বেশি কাজ করলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজেরই প্রচার বেশি হবে”।
এহেন মন্তব্যে বিরোধিতা অন্য এক তৃণমূল বিধায়কের
নারায়ণ গোস্বামীর এহেন মন্তব্যের সঙ্গে একমত নন উত্তর ২৪ পরগণার তৃণমূলের কোর কমিটির চেয়ারম্যান তথা তৃণমূলের প্রবীণ বিধায়ক নির্মল মাজি। তাঁর কথায়, “এমন কোনও ব্যাপার নেই যে দলে নবীন বা প্রবীণ আলাদাভাবে কাজ করে। সকলে মিলে কাজ করে। সেভাবেই দল এগিয়ে যাবে। এখানে বয়সের কোনও ব্যাপার নেই। কমবয়সি হোক বা বেশি বয়সি, যাঁদের মধ্যে ক্ষমতা আছে, দক্ষতা আছে, তাঁরা দলে কাজ করবেই। আর আমাদের সবার লক্ষ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঠিক করে দেওয়া কর্মসূচি ঠিকমতো পালন করা”।





