বেশ ভালো খেলোয়াড় ছিলেন তিনি। অবশ্যই ভোটের মাঠে। তবে এবার বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ২১শের হাই ভোল্টেজ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন মমতা ঘনিষ্ঠ রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়।
২০১১ সালে নিরুপম সেনকে ৩০ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রীসভায় আসেন তিনি। ২০১৬ সালেও রেকর্ড অব্যাহত রেখে জেতেন তিনি। তবে এবার নির্বাচনী না লড়ার খবর টুইটারে নিশ্চিত করেছেন এই রাজনীতিক।
এ দিন রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায় নিজের ট্যুইট হ্যান্ডেলে লেখেন, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে আমার বয়স ও শারীরিক কারণে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দলনেত্রীকেও এই বার্তা পাঠিয়ে দিয়েছি। আমার প্রিয় বর্ধমানবাসীদের ধন্যবাদ জানাই ও তাঁদের কল্যাণ কামনা করি।
২০১১ সালে যাঁকে তৃণমূলের প্রার্থী করার কথা ছিল বর্ধমান দক্ষিণ আসনে সেই সিদ্ধান্ত বদলানো হয় বাংলার সাহিত্য জগতের এক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের সুপারিশে। সেই ব্যক্তিত্বের সুপারিশ মেনে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক ড. রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যাকে প্রার্থী করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১৬ সালেও তিনি জেতেন। কারিগরী শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, বায়ো টেকনোলজি দফতরের মন্ত্রিত্বও সামলেছেন রবিরঞ্জন। যদিও বর্ধমানের রাজনৈতিক মহলে কান পাতলে শোনা যায়, প্রথম থেকেই তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে অস্বস্তিতে ছিলেন বিধায়ক। তাঁকে দলের কাজকর্মেও সেভাবে পাওয়া যেত না বলে তৃণমূলের অন্দরে ক্ষোভ ছিল। বিধায়ক কলকাতায় বেশি থাকেন, বর্ধমানে কম থাকেন এমন অভিযোগও ছিল। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। এক ধর্নামঞ্চে তাঁকে দলনেত্রী মঞ্চে উঠতে পর্যন্ত নিষেধ করেছিলেন, এমন নজিরও রয়েছে। সেই রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায় এবার নির্বাচনে লড়া থেকে অব্যাহতি চাইলেন।
সূত্রের খবর, এবারের ধুন্ধুমার নির্বাচনে আর টিকিট পাবেন না বুঝেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন এই শিক্ষাবিদ তথা রাজনীতি।
উল্লেখ্য, বর্ধমান উন্নয়ন সংস্থা বা বিডিএ-র চেয়ারম্যান পদেও তিনি আর কতদিন বহাল থাকেন সেদিকেও এখন সকলের নজর।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বর্ধমানে তৃণমূলের অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কথা বারেবারেই প্রকাশ্যে চলে আসে। আর তা আরও বেড়েছে সিপিআইএম থেকে বিজেপি হয়ে আইনুল হক তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর। একটা সময়ে সিপিআইএমের দাপুটে নেতা তথা পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান আইনুল হককে মানবেন না বলে প্রকাশ্যেই জানিয়েছেন তৃণমূলের অন্য এক দাপুটে নেতা খোকন দাস। রাজ্যে নেতৃত্বও বর্ধমানে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে রাশ টানতে পারেনি। বর্ধমানের রাজনৈতিক মহলে জল্পনা, আইনুল ও খোকন দুজনেই প্রার্থীপদের প্রত্যাশী। তার মধ্যেই বেড়েছে বিজেপি। বেশিরভাগ ওয়ার্ডে জিতলেও বর্ধমান দক্ষিণে সামান্য ভোটে পিছিয়ে ছিল গেরুয়া শিবির। এই ফলাফলে উৎসাহিত বিজেপি আসন্ন নির্বাচনে টার্গেট করেছে এই আসনটিকেও।





