‘প্রথমে ঘোমটা দিয়ে কথা বলছেন, তারপরই সি’গা’রে’ট খাচ্ছেন, ভাড়া করে আনা হয়েছে সবাইকে’, সন্দেশখালির মহিলাদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য তৃণমূল বিধায়কের

সন্দেশখালি জ্বলছে। মহিলারা লাঠি, ঝাঁটা হাতে প্রতিবাদ করছেন তৃণমূল নেতাদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে। বিরোধীরা এই ঘটনায় শাসক দলকে আক্রমণ শানাতে কসুর করছে না। ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে তৃণমূল নেতা উত্তম সর্দার, শিবু হাজরা, অজিত মাইতিকে। এমন আবহে এবার সন্দেশখালির মহিলাদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করলেন ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা।

জমিবাড়ি জোর করে দখল নেওয়া, শ্লী’ল’তা’হা’নি, নারী নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সন্দেশখালির নেতাদের বিরুদ্ধে। শেখ শাহজাহান ও তাঁর সাগরেদদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বর্ষণ করেছেন সন্দেশখালির মহিলারা। সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলেছেন তারা। তাদের উপর হওয়া অত্যাচারের বিবরণ দিয়েছেন তারা। এবার এই মহিলাদের সম্পর্কেই শওকত মোল্লার দাবী, টাকা বিনিময়ে কলকাতা থেকে লোক ভাড়া করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সন্দেশখালিতে।  তারাই ক্যামেরার সামনে মুখ খুলছেন।

ঠিক কী বলেছেন তৃণমূল নেতা?

আজ, সোমবার ভাঙড়ের শানপুকুর অঞ্চলে একটি সভা ছিল তৃণমূলের। সেই সভা থেকে শওকত মোল্লা বললেন, সন্দেশখালি নিয়ে যে খবর সামনে আসছে তার মধ্যে ৯০ শতাংশই নাকি মিথ্যে। তাঁর দাবী, “কলকাতা থেকে পাঁচ হাজার, দশ হাজার, কুড়ি হাজার টাকা দিয়ে লোক ভাড়া করা হচ্ছে। এদের কেউ ঘোমটা দিয়ে কথা বলছেন। পরবর্তীকালে দেখা যাচ্ছে এরাই সি’গা’রে’ট খাচ্ছে”।

যে মহিলারা তাদের উপর হওয়া নির্যাতন, শ্লী’ল’তা’হা’নি, মান-সম্মান কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন, তাদের সম্পর্কেই এমন ঘৃণ্য মন পোষণ করায় তৃণমূল নেতার নিন্দা করা হয়েছে তীব্রভাবে। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন যে সন্দেশখালিতে বহিরাগতরা ঢুকছে। তা নিয়ে শাসক দলকে বেশ ভুগতে হয়েছিল। সেই রেশ না কাটতেই তৃণমূল নেতার  এহেন মন্তব্যে ফের নতুন করে অস্বস্তিতে জড়াল শাসক দল।  

কী প্রতিক্রিয়া বিরোধীদের?

শওকত মোল্লার মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বিজেপি জেলা সাধারণ সম্পাদক বিকাশ সর্দার বলেন, “এই মন্তব্যের উত্তর দিতে আমাদের ভাবতে হচ্ছে। উনি একজন দুষ্কৃতী। ২০২১ নির্বাচনের পর ওনার নেতৃত্বাধীন দুষ্কৃতী বাহিনী ভাঙড়ে অকথ্য অত্যাচার চালিয়েছে। বিজেপি কর্মীদের ভাঙচুর করেছে। এখন এই সব মন্তব্য করে আন্দোলনের মোড় ঘোরাতে চাইছেন। ওনার বক্তব্যে আমরা লজ্জিত। আমরা চাই শওকতের বিরুদ্ধে ইডি-সিবিআই তদন্ত করে”।

তৃণমূল নেতার এহেন মন্তব্যে আইএসএফ জেলা পরিষদ সদস্য বলেন, “আজ তৃণমূল নেতারা জেলে যাচ্ছেন। কালকে তো ছাড়া পাবেন। তখন কী হবে? প্রাণের ভয়েই মহিলারা ঘোমাটা দিচ্ছেন। আর সি’গা’রে’ট খাওয়া একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার”।

RELATED Articles