ফের একবার দলের এক নেত্রীর কারণে বিপাকে পড়তে হল তৃণমূলকে (TMC)। দলবদলের প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে দণ্ডি কাটা, এই নিয়ে এমনিতেই বেশ বিতর্কে পড়েছিল ঘাসফুল শিবির। আর এমন আবহে আবার আরামবাগের তৃণমূল সাংসদ অপরূপা পোদ্দারের (Aparupa Poddar) বেফাঁস মন্তব্যের কারণেও আবারও অস্বস্তিতে দলও।
তৃণমূল নেত্রীর কথায়, দলের নির্দেশিকাতেই নাকি স্পষ্ট লেখা রয়েছে যে দলে ফিরতে হলে প্রায়শ্চিত্ত করতেই হবে। অপরূপা পোদ্দারের এহেন মন্তব্যে বেশ শোরগোল পড়েছে রাজ্য-রাজনীতিতে। যদিও সাংসদের দাবী, তাঁর মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
প্রথমে দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া। এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ফের দলে ফিরে আসা। দলে ফেরার জন্য প্রায়শ্চিত্ত করতে হয়েছিল বালুরঘাটের তপনের তিন মহিলা তৃণমূল কর্মীকে। দণ্ডি কাটতে হয় তাদের। সেই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে নিন্দা করেন বিরোধীরা।
নানান মহল থেকেই এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা করা হয়। বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার এই বিষয়ে জানিয়ে চিঠি দেন রাষ্ট্রপতির কাছে। অভিযুক্ত মহিলা তৃণমূলের সভানেত্রীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করে তৃণমূল। পদ থেকে সরানো হয় তাঁকে।
কিন্তু এরপরও শেষ হল না বিতর্ক। এই দণ্ডি কাণ্ডের পক্ষেই সওয়াল করে দলকে নতুন করে বিড়ম্বনায় ফেললেন অপরূপা পোদ্দার। এক ভিডিও বার্তায় তৃণমূল সাংসদকে বলতে শোনা যায়, “দলের একটা নির্দিষ্ট গাইডলাইন থাকে। কেউ যদি ভুল করে তাকে তো প্রায়শ্চিত্ত করে তবেই দলে ফিরতে হবে। ২০২১ সালের পর যারা দলে ফিরেছেন নিজেদের ভুল বুঝে সকলেই প্রায়শ্চিত্ত করে ফিরেছেন। অনেকেই ন্যাড়া হয়েছে। তপনের ঘটনায় মহিলারা স্বেচ্ছায় প্রায়শ্চিত্ত করেছে”।
এখানেই শেষ নয়, এই ভিডিওতে বিজেপিকেও তুলোধোনা করতে শোনা যায় তৃণমূল সাংসদকে। এক সংবাদমাধ্যমের তরফে এই বিষয়ে জানতে অপরূপা পোদ্দারকে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান যে তাঁর ভিডিও বার্তাকে ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। প্রায়শ্চিত্ত অনেকেই করেন তবে তা সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছাতে। দলে এমন কোনও নির্দেশিকা নেই।






