এর আগে তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর এমন মন্তব্য করেছিলেন। আর এবার শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। জুনিয়র চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে রোগীর মৃত্যু হচ্ছে, এই অভিযোগ তুলে এবার মিছিলে সামিল তৃণমূল নেতা। মিছিল থেকে চিকিৎসকদের ‘খুনি’ বলে দাগেন তিনি।
কিছুদিন আগেই আর জি করে নিয়ে যাওয়া হয় কোন্নগরের এক যুবককে। দুর্ঘটনায় জখম হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু মৃত্যু হয় সেই যুবকের। অভিযোগ ওঠে, বিনা চিকিৎসায় নাকি মৃত্যু হয়েছে তাঁর। যদিও চিকিৎসকরা সেই দাবী খণ্ডন করেন। শুধু তাই নয়, সুপ্রিম কোর্টে আর জি করের গত শুনানিতে রাজ্যের তরফের আইনজীবীর তরফে দাবী করা হয়, জুনিয়র চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে বিনা চিকিৎসায় ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এবার এই নিয়ে সুর চড়ালেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
গতকাল, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যেবেলা কোন্নগরের যুবকের মৃত্যুর প্রতিবাদে বঙ্গ জাগরণ মঞ্চের ব্যানারে আয়োজন করা মিছিলে হাঁটলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখে স্লোগান, “খুনি ডাক্তারদের বিচার চাই, কলকাতার অভিনেত্রীদের পশ্চিমবাংলার গরিবদের দেখতে হবে। কলকাতার এলিটক্লাসের দালাল দূর হঠো”।
এদিন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমরা প্রথম থেকেই তিলোত্তমার মৃত্যুর বিচার চেয়েছি। কিন্তু ডাক্তারদের কর্মবিরতির জেরে একজন তরতাজা যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এই মৃত্যুর বিচার কে করবে? ঘটনায় সঠিক তদন্ত করে বিচার হওয়া দরকার। রাজ্যে বিনা চিকিৎসায় আরও অনেকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে সেই সব মৃত্যুর বিচার হওয়া প্রয়োজন”।
তৃণমূল সাংসদের কথায়, “যে ক্রিমিনাল অ্যাক্ট হয়ে গিয়েছে তার সঙ্গে কোনও আপোষ করা যাবে না। এর বিচার করতেই হবে। যে ডাক্তাররা সুপ্রিম কোর্ট বলার পরও কাজে যোগ দিলেন না তাঁদের মানসিকতা খুব পরিষ্কার। তাঁদের ইগো নিয়ে চলছেন। বাংলার মানুষের সেবা করতে আসেননি। এক মাসের উপর যাঁরা পরিষেবা দেননি, তাঁদের ডাক্তার হওয়াই উচিত নয়। ডাক্তাররা অমানবিক কাজ করেছেন এভাবে কর্মবিরতি করে। সংবিধানের ধারা লঙ্ঘিত। এর বিচার চাই”।
তৃণমূল সাংসদের এহেন মন্তব্যে আন্দোলনকারী চিকিৎসক কিঞ্জল নন্দ বলেন, “৭ হাজার ৫০০ জুনিয়র ডাক্তারদের জন্য যদি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে, তাহলে সেই রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাই প্রশ্নের মুখে। ডাক্তারদের অনেকদিন ধরেই অনেকে অনেক কিছু বলেন। আমরা সেসব গায়ে মাখি না। ওনার কথাও গায়ে মাখছি না”।
আরও পড়ুনঃ মুখ্যমন্ত্রীর থেকে মেলেনি রফাসূত্র, এবার রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ জুনিয়র চিকিৎসকরা, দ্রৌপদী মুর্মুকে চিঠি, কী লেখা সেই চিঠিতে? কাটবে অচলাবস্থা?
অন্যদিকে, বিশিষ্ট চিকিৎসক সুবর্ণ গোস্বামীর এই বিষয়ে বক্তব্য, “উনি তো চিরকালই কুকথা বলেন। ওনার কথায় শিক্ষাদীক্ষার ছাপ পাইনি। বয়সোপযুক্ত গাম্ভীর্য ওনার কথায় থাকে না। বাজার গরম করতে উনি অভ্যস্ত”।





