জ্বলছে সন্দেশখালি, এদিকে ‘প্রমিস ডে’-তে রিলস বানাচ্ছেন এলাকার সাংসদ নুসরত জাহান, নিজের সংসদীয় এলাকা নিয়ে কোনও প্রতিশ্রুতি নেই সাংসদের?

সন্দেশখালি জ্বলছে। মহিলারা গত চারদিন ধরে রাস্তায় নেমেছে প্রতিবাদে। নিজেদের স’ম্মা’ন’হা’নির বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছেন তারা। ৩৭ দিন হয়ে গেল গোটা সন্দেশখালিতে চলছে চরম অরাজকতা। কিন্তু এসবের মধ্যে কোথায় এলাকার সাংসদ? বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যেই তো পড়ে সন্দেশখালি। আর বসিরহাটের সাংসদ যেন কে? সত্যিই তা ভুলতে বসেছেন সেখানকার মানুষই। একদিকে যখন এলাকার মহিলারা নিজেদের উপর হওয়া অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন, তখন সেখানকারই মহিলা সাংসদ ব্যস্ত রিলস ভিডিও বানাতে।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে উত্তপ্ত সন্দেশখালি। আর সেদিনই প্রথম রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানান সেখানকার মহিলারা। হাতে বাঁশ, লাঠি নিয়ে নিজেদের সম্মান রক্ষার লড়াই চলছে তাদের। সেদিন ছিল আবার ‘রোজ ডে’। তাই নিজের এলাকার মানুষদের পাশে দাঁড়াতে নয়, নুসরত জাহানকে দেখা গেল ‘রোজ ডে’ নিয়ে ছবি পোস্ট করতে। আবার প্রমিস ডে-তেও তাই। কিন্তু নিজের সংসদীয় এলাকার মানুষদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি কতটা পূরণ করলেন তৃণমূল সাংসদ?    

জ্বলছে সন্দেশখালি, এদিকে ‘প্রমিস ডে’-তে রিলস বানাচ্ছেন এলাকার সাংসদ নুসরত জাহান, নিজের সংসদীয় এলাকা নিয়ে কোনও প্রতিশ্রুতি নেই সাংসদের?

সন্দেশখালিতে ঘটনার সূত্রপাত তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানের বাড়ি ইডির তল্লাশি করতে যাওয়ার সময় থেকে। সেদিন শাহজাহানের অনুগামীরা হামলা চালায় তদন্তকারীদের উপর। সেই নিয়েও তখন মুখ খোলেন নি সাংসদ নুসরত জাহান। আর এখন যখন সেখানকার মহিলারা প্রতিবাদ জানাচ্ছেন, তখনও একই ভাবে চুপ তিনি। আর এই কারণে ক্ষোভে ফুঁসছেন সেখানকার মানুষ।

নুসরতকে নিয়ে সন্দেশখালির এক মহিলার কথায়, “আমরা ওনাকে ভোট দিয়েছি। উনি কেন আসেন না? একটা কাজের জন্য ওনাকে পাই না। ভোট নিয়ে ছিনিমিনি খেলল”। আরও এক মহিলা বললেন, “এখন মা বোনেরা ক্ষিপ্ত। আর উনি টিকটক নিয়ে ব্যস্ত”। তবে নুসরতকে নিয়ে এই অভিযোগ নতুন নয়। সাংসদ তো তিনি হয়েছেন কিন্তু নিজের এলাকায় দেখাই মেলে না তাঁর। একবার নুসরত নিখোঁজ বলে পোস্টারও পড়েছিল বসিরহাটে।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by Nussrat Jahan (@nusratchirps)

কিছুদিন আগে এক সংবাদমাধ্যমের তরফে নুসরতকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তিনি আদৌ সন্দেশখালি যাবেন কী না। সেই প্রশ্নের কোনও উত্তর দেন নি তিনি। এলাকার মানুষ পাশেই পাচ্ছেন না সেই সাংসদকে যাকে কী না তারাও বিশ্বাস করে ভোট দিয়ে জিতিয়েছিলেন। ফলে তারা রীতিমতো ফুঁসছেন। এই ঘটনায় কটাক্ষ করতেও ছাড়ছে না বিরোধীরা।  

RELATED Articles