‘ফেরার’ সন্দেশখালির মানুষের উপর অত্যাচার চালানো শিবু হাজরার অভিযোগ, প্রাক্তন বাম বিধায়ককে গ্রেফতার করল পুলিশ

সন্দেশখালি নিয়ে জট কাটছে না। এরই মধ্যে আচমকাই পুলিশের হাতে গ্রেফতার প্রাক্তন বাম বিধায়ক নিরাপদ সর্দার। আজ, রবিবার সকালে নিরাপদবাবুর বাড়ি যায় বাঁশদ্রোনী থানার পুলিশ। বলা হয়, নিরাপদবাবুকে তাদের সঙ্গে থানায় যেতে হবে। থানায় তাঁকে জেরার পর গ্রেফতার করে পুলিশ। বামনেতার গ্রেফতারিতে প্রতিবাদ বাম কর্মী-সমর্থকদের।

কেন গ্রেফতার করা হল নিরাপদ সরদারকে?

পুলিশ সূত্রে খবর, তৃণমূল নেতা শিবু হাজরা অভিযোগ করেছিলেন নিরাপদ হাজরার বিরুদ্ধে। তাঁর অভিযোগে এক নম্বরে উল্লেখ ছিল নিরাপদ সর্দারের নাম। শিবুর অভিযোগ, সন্দেশখালির প্রাক্তন সিপিএম বিধায়কের মদতে তাঁর অনুগামীরা তাঁর পোল্ট্রি ফার্মে হামলা চালিয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এই গ্রেফতারি।

এই ঘটনায় সরব হয়েছে সিপিএম। তাদের বক্তব্য, ঘটনার দিন দলেরই বৈঠকে ছিলেন নিরাপদবাবু। তাহলে একজন ব্যক্তি দু’জায়গায় থেকে হামলা কীভাবে চালাবে? বামেদের দাবী মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে নিরাপদবাবুকে। নিরাপদ সর্দার অভিযোগ করেছিলেন যে শেখ শাহজাহান সন্দেশখালিতেই কোথাও লুকিয়ে রয়েছেন। সেই কারণেই এই গ্রেফতারি বলে দাবী বাম শিবিরের।  

শিবু হাজরা যে নিরাপদ সর্দারের নামে অভিযোগ করেছেন, সেই নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন নিরাপদবাবু। বলেছিলেন, “দিনের পর দিন ওরা অত্যাচার করেছে। আদিবাসীদের জমি কেড়ে নিয়েছে। টাকা দেয়নি। সেই টাকার দাবিতে মানুষ পথে নেমেছে। আজ সন্দেশখালি তার প্রতিবাদে নেমেছে। এখানকার মানুষ শান্তিতে বাঁচতে চায়। তাই তাঁরা নিজেরাই পথে নেমেছে। এখন তৃণমূল যখন বেকায়দায় পড়ে গিয়েছে, সেই কারণে বাঁচার জন্য কারোর নাম তো বলতেব হবে। তাই সিপিএম-এর নেতাদের নাম জড়াচ্ছে”।

নিরাপদ সর্দারের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “আসলে শিবুর বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিল। শাহজাহানের বিরুদ্ধে মুখে খুলেছে। সেই কারণেই ওকে গ্রেফতার করেছে। অদ্ভুদ, শিবুর বিরুদ্ধে এত অভিযোগ পুলিশ ওকে নিরাপদে রেখেছে আর যে মুখ খুলল তাঁকে গ্রেফতার করেছে”।

প্রশ্নটা এখানেই। শিবু হাজরার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছেন সন্দেশখালির মানুষ। তাঁর বিরুদ্ধে স্থানীয়দের উপর অত্যাচার থেকে শুরু করে মহিলাদের শ্লী’ল’তা’হা’নি, তাদের উপর শারীরিক অত্যাচার করার অভিযোগ রয়েছে। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই ফেরার শিবু হাজরা। তাঁকে এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারে নি পুলিশ। কিন্তু সেই অভিযুক্তর অভিযোগের ভিত্তিতে এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয় কীভাবে? পুলিশ কী এতটাই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে? উঠছে প্রশ্ন।   

RELATED Articles