বাঙালির প্রতি অবিচার হলে চুপ করে থাকেন না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কখনও ছাত্র মৃত্যুর প্রতিবাদ, তো কখনও রাজ্যের প্রতি কেন্দ্রের বঞ্চনার বিরুদ্ধে একাই পথে নেমেছেন তিনি। এবারও তার অন্যথা হল না। বুধবার বৃষ্টি মাথায় নিয়ে শহরের রাস্তায় নামলেন মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন দলের একঝাঁক শীর্ষনেতা।
সম্প্রতি বিভিন্ন রাজ্যে কাজে গিয়ে একাধিক বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ উঠেছে। শুধু বাংলা বলার জন্যই তাঁদের বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করেছে স্থানীয় প্রশাসন, এমনকি বিএসএফও তাঁদের সীমান্তে পাঠাতে চেয়েছে বলে অভিযোগ। দেগঙ্গা, মুর্শিদাবাদ-সহ রাজ্যের একাধিক জেলার মানুষ এই নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। দিল্লিতেও হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে। সেই সব ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই কলেজ স্কোয়ার থেকে শুরু হয় তৃণমূলের মিছিল।
এদিন মিছিলের সূচনা হয় কলেজ স্কোয়ার থেকে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন মিছিলের শীর্ষে। বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে তাঁদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে হাঁটেন অরূপ বিশ্বাস, ফিরহাদ হাকিম, শশী পাঁজা-সহ একাধিক তৃণমূল নেতা। অরূপ বিশ্বাস কালো পাঞ্জাবি পরে জানিয়ে দেন এদিনের প্রতিবাদ কোনও আঞ্চলিকতা নয়, এটা বিজেপি সরকারের বাঙালি-বিরোধী মানসিকতার বিরুদ্ধে সওয়াল।
কলকাতার মেয়র ও রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, “যাঁরা জাতীয় সংগীত গাওয়ার গর্ব করেন, তাঁরা জানেন না, সেটি রচনা করেছেন একজন বাঙালি। সেই বাঙালি ভাষা বললেই যদি তাঁকে অপমান করা হয়, তা হলে প্রতিবাদ করতেই হবে।” মন্ত্রী শশী পাঁজা বলেন, “বিজেপি চায় বাঙালিদের দমন করতে। কিন্তু আমরা বাংলা ভাষার গর্ব নিয়ে দাঁড়াব।”
আরও পড়ুনঃ Gangrape Case : দরজা বন্ধ করে পুলিশের ফোন! মায়ের চোখের সামনে নিজের ঘরে গণ*ধর্ষণের শিকার মেয়ে
তৃণমূল যেখানে বাঙালি আত্মসম্মান রক্ষার কথা বলছে, সেখানে বিজেপির দাবি, এটি আসলে নজর ঘোরানোর রাজনীতি। তাঁদের বক্তব্য, রাজ্যে দুর্নীতির যে পাহাড় জমেছে, তা আড়াল করতেই তৃণমূল এই নাটক করছে। একই সময়ে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও সভা করছেন। তবে রাজনৈতিক তরজার মাঝেও মুখ্যমন্ত্রী ও অভিষেকের এই মিছিল বাঙালির আবেগকে কেন্দ্র করেই চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।





