ভোটের আগেই হয়ে গেল ফলপ্রকাশ। প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করেই জয় হল তৃণমূলের। গতকাল, বৃহস্পতিবার মনোনয়ন পর্বের শেষে নন্দীগ্রাম ব্লকের কালীচরণ পুর অঞ্চলে বিজয়োল্লাসে মেতে উঠলেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। ফুলের মালা, সবুজ আবির দিয়ে জয়ের আনন্দে মাতলেন তারা। বিরোধীরা জমা দিতেই পারেন নি মনোনয়ন। ফলে বিনা কোনও প্রতিদ্বন্দ্বিতাতেই সেখানে জয় হল তৃণমূলের।
অন্যদিকে আবার, বজবজ ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতিতেও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতাতেই জিতে গেল তৃণমূল। সমিতির অধীন সংখ্যাগরিষ্ঠ গ্রাম পঞ্চায়েতও তৃণমূলের দখলে এল সে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতাতেই। পঞ্চায়েত ভোটের মনোনয়নের শেষদিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বজবজ ১ নম্বর ব্লকের তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মত। ডিজে বাজিয়ে, আবির মেখে এই জয় পালন করলেন তাঁরা।
নিজেদের এই জয় সম্পর্কে নন্দীগ্রামের এক তৃণমূল কর্মী বলেন, “এটা আমাদের কনফিডেন্স। কারণ, কালিচরণপুর অঞ্চলে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন এবং বিরোধী দল বিজেপি ও সিপিএম যথেষ্ট দুর্বল, তাই নমিনেশন পর্ব শেষের পরেই ভোটে জেতার আনন্দ মেতেছি আমরা”।
বজবজ ১ নম্বর ব্লকের অধীনে ৬টি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে। পঞ্চায়েত সমিতি রয়েচগে ১৭টি। জেলা পরিষদের সংখ্যা ২। তৃণমূল এখানে ১১১টি মনোনয়ন জমা দেয়। পুরোপুরি বিরোধী শূন্য অবশ্য ছিল না। ৬টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে বুইতা গ্রাম পঞ্চায়েতে বাম সমর্থিত নির্দল প্রার্থী ও নিশ্চিন্তপুরে গ্রাম পঞ্চায়েতে দু’জন কংগ্রেস প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন। দুটি জেলা পরিষদের একটিতে মনোনয়ন জমা দেন বিজেপি প্রার্থী। কিন্তু পঞ্চায়েত সমিতির কোনও আসনেই কোনও বিরোধী প্রার্থী মনোনয়ন জমা করেন নি।
ফলে গ্রাম পঞ্চায়েতের ওই তিনটি আসন এবং জেলা পরিষদের একটি আসনেই কেবল নির্বাচন হবে। আর পঞ্চায়েত সমিতিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতাতেই জয়লাভ করেছে তৃণমূল। বিরোধী বিজেপি, সিপিএম ও কংগ্রেস শিবিরের অভিযোগ, তৃণমূল সন্ত্রাস সৃষ্টি করে বিরোধী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে দেয়নি। যদিও তৃণমূলের পাল্টা দাবী, প্রার্থী খুঁজে না পেয়ে এখন এসব নাটক করছে বিরোধী শিবির।





