West Bengal: বিএলও-কে অকথ্য গালিগালাজে গ্রেফতার তৃণমূল কর্মী! “এসআইআর আটকাতেই বিএলও-দের ভয় দেখাচ্ছে শাসকদল”- অভিযোগ বিজেপির!

সন্দেশখালির রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের তৈরি হয়েছে অস্বস্তিকর উত্তেজনা। নির্বাচন প্রক্রিয়া সামনে রেখে প্রশাসন যেখানে ভোটার তালিকা সংশোধন থেকে শুরু করে সব কাজই নিষ্পত্তি করতে ব্যস্ত, ঠিক সেই সময়ই সামনে এসেছে এক অডিয়ো ক্লিপ। স্থানীয় মহলে দাবি— সেই অডিয়োতে নাকি শোনা যাচ্ছে এক ব্যক্তির হুঁশিয়ারি ও অপমানজনক ভাষা। যদিও এই ক্লিপের সত্যতা এখনও কারও তরফে যাচাই হয়নি, তবুও সেটি ঘিরে এলাকায় ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য।

ঘটনার সূত্রপাত ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজকে কেন্দ্র করে। সূত্রের খবর, ফর্ম ফিলাপ ও আপলোডের ক্ষেত্রে কয়েকটি সমস্যা দেখা দিচ্ছিল। সেই কারণেই স্থানীয় এক তৃণমূল কর্মী জামিরুল ইসলাম মোল্লাকে ডাকা হয়। এই সময়ই ঘটনার মোড় ঘুরে যায় বলে দাবি। অভিযোগ, এরপরই এক বিএলও— দীপক মাহাতো—কে ফোন করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং ভয় দেখাতে শুরু করেন জামিরুল। ঠিক এটিই নাকি অডিয়ো ক্লিপে রেকর্ড হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

ভাইরাল হওয়া ওই অডিয়োতে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, “তোর ঘর-বাড়ি ভাঙচুর করব… ঠিক করে সংশোধন কর… নাহলে রাতের মধ্যে তোকে জবাই করে দেব।” যদিও খবর ২৪*৭ এই অডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি, তবে কথাগুলি ঘিরে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, ভয় দেখানোর পর বিএলও সম্পূর্ণ ঘটনাটি বিডিও-কে জানালে প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন। অভিযোগ পাওয়ার পরই পুলিশ জামিরুল ইসলামকে গ্রেফতার করে। শনিবার তাঁকে বসিরহাট মহকুমা আদালতে তোলা হয়।

স্বাভাবিকভাবেই ঘটনার পর রাজনৈতিক পারদ চড়ে গেছে সন্দেশখালি জুড়ে। বিজেপির অভিযোগ— এসআইআর প্রক্রিয়াকে বাধা দিতেই তৃণমূলের একাংশ বিএলও-দের উপর চাপ সৃষ্টি করছে। বসিরহাট জেলা বিজেপির যুব সভাপতি পলাশ সরকারের দাবি, “দিকেদিকে বিএলও-রা মানসিক চাপের মধ্যে পড়ছেন। কেউ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এর দায় তৃণমূলের।” তাঁদের অভিযোগ— ভোট ব্যাঙ্কে টান পড়ার আশঙ্কাতেই শাসকদল কর্মীদের দিয়ে চাপ তৈরি করাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ “সরকার চায় না ভারতের মুসলিমরা মাথা তুলুক”, মাদানির বিস্ফোরক অভিযোগ! কংগ্রেসের সমর্থন বনাম বিজেপির তীব্র পালটা জবাবে কি বাড়াল নতুন ধর্মীয় উত্তেজনা?

তবে তৃণমূলের পক্ষ সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। দলীয় নেতা বুলবুল রহমান জানিয়েছেন, “বিএলও-দের মধ্যে অনেকেই আছেন যাঁরা নিজেদের কাজে অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে পড়ছেন। ফলে নানা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হচ্ছে।” যদিও এই ব্যাখ্যা বিজেপি মানতে নারাজ। গ্রেফতারের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত। এখন নজর— আদালতের নির্দেশ এবং পুলিশের পরবর্তী তদন্ত কোন পথে এগোয়। সন্দেশখালির সাধারণ মানুষও অপেক্ষা করছেন, আসলে ঠিক কী ঘটেছিল এবং এই অডিয়ো ক্লিপের পিছনের সত্যিই বা কী।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles