সন্ধ্যা নামতেই একের পর এক পুলিশি গাড়ি ঢুকতে থাকে উত্তর ২৪ পরগনার খড়দহ এলাকার একটি গলিতে। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে বুঝেই উঠতে পারেননি ঠিক কী হচ্ছে। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই এলাকার চেনা মুখ নইম আলি ওরফে নেপালির বাড়ি ঘিরে ফেলেন পুলিশ আধিকারিকরা। বাড়ির চারপাশে কড়া নিরাপত্তা, ভিতরে তল্লাশি শুরু হয়। বাইরে তখন লোকজনের ভিড়। সবাই একটাই প্রশ্ন করছিলেন— কী এমন আছে ওঁর বাড়িতে?
জানা গিয়েছে, নইম আলি এলাকার পরিচিত মুখ। রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। স্থানীয় সূত্রে খবর, তিনি পানিহাটি পুরসভার এক তৃণমূল কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। সাধারণত সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মীদের বাড়িতে এমন চেহারার পুলিশি অভিযান সচরাচর দেখা যায় না, ফলে আশ্চর্য হয়ে যান বহু মানুষ। তবে পুলিশ গোপন সূত্রে একটি খবর পেয়ে অভিযান চালায় বলে জানা গিয়েছে।
তল্লাশির সময় একের পর এক অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় তাজ্জব বনে যান তদন্তকারীরা। উদ্ধার হয় স্টেন গান, নাইট্রো-অ্যামুনিশন কার্তুজ-সহ একাধিক বিপজ্জনক অস্ত্র। পুলিশ সূত্রে খবর, এগুলির বেশ কিছু সেনাবাহিনীতে ব্যবহৃত হয়। বাড়ির ভিতর যেন এক অস্ত্রাগার! তদন্তকারীরা প্রাথমিকভাবে মনে করছেন, এই অস্ত্রগুলি কোথা থেকে এল, বা কী উদ্দেশ্যে সেগুলি রাখা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
এই অভিযান চালায় খড়দহ এবং কামারহাটি থানার যৌথ পুলিশ বাহিনী। ঘটনাস্থল মৌলানা সেলিম রোডে অভিযান চালানো হয় সোমবার সন্ধ্যায়। বাড়ির ভিতরের ঘর, রান্নাঘর এমনকি ছাদ পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধারে সফল হন পুলিশকর্মীরা। অভিযানের পরই নইমকে গ্রেফতার করা হয় এবং থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
আরও পড়ুনঃ অপারেশন সিঁদুর পোস্টে গ্রেফতার শর্মিষ্ঠা, জামিনের আবেদন খারিজ, নতুন অভিযোগ নিষিদ্ধ! শর্মিষ্ঠাকে হাইকোর্টের সাময়িক স্বস্তি!
বর্তমানে অভিযুক্ত নইম আলিকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে তোলা হবে বলে জানা গিয়েছে। গোটা ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, নইমের সঙ্গে আরও কারা যুক্ত ছিল, এবং উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলি আদৌ কোনও বড় ষড়যন্ত্রের অংশ কিনা। তদন্তের পর ধীরে ধীরে সামনে আসতে পারে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য।





