সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন (Panchayet Election)। জনসংযোগ বাড়াতে তৃণমূলের তরফে শুরু হয়েছে ‘দিদির সুরক্ষাকবচ’ (Didir Suraksha Kawaj) কর্মসূচি। তৃণমূলের নানান নেতারা ‘দিদির দূত’ (Dodir Dut) হয়ে নানান এলাকায় যাচ্ছেন সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনার জন্য। আর গিয়ে বিক্ষোভের মুখেও পড়তে হচ্ছে তাদের। এবার ‘দিদির দূত’ হয়ে গ্রামে পৌঁছতেই তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদেরই বিক্ষোভের মুখে পড়লেন দক্ষিণ ২৪ পরগণার জেলা পরিষদের সভাধিপতি শামিমা শেখ (Shamima Sheikhs)। বিক্ষোভ থেকে শুরু হয় বচসা। তবে সঙ্গে পুলিশ থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে দ্রুত।
ঘটনাটি ঘটে গতকাল, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ নামখানা ব্লকের হরিপুর গ্রামপঞ্চায়েতের আটমাইল এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রায় আধ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে এমন বিক্ষোভ চলে। এরপর এলাকা ছেড়ে বেরিয়ে যান সভাধিপতি। শামিমা শেখ বিক্ষোভের কথা মেনে নিয়েছেন বটে তবে তাঁর কথায়, কয়েকজন মানুষ একসঙ্গে অভাব অভিযোগ জানিয়েছেন। মানুষের অভাব অভিযোগ শোনার জন্যই তো দিদির দূত কর্মসূচি বলে জানান সভাধিপতি।
এদিন গোটা দিন হরিপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ‘দিদির দূত’ কর্মসূচিতে অংশ নেন শামিমা। বিকেলে তিনি যান আটমাইল এলাকায়। সেখানে গেলে ১৫০ থেকে ২০০ জন গ্রামবাসী ঘিরে ধরেন তাঁকে। তারা নিজেদের তৃণমূল কর্মী-সমর্থক বলে দাবী করেন।
নানান অভিযোগ জানান তারা সভাধিপতিকে। বেহাল রাস্তা, শ্মশানের কাজ কেন হয়নি, এই নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। এসবের মধ্যেই জেলা পরিষদ সদস্য শ্রীমন্ত মালির সঙ্গে বচসায় জড়ান গ্রামবাসীরা। দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতিও হয় বলে খবর। তবে সঙ্গে পুলিশ থাকায় সেই পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে।
এদিন এলাকার এক ব্যক্তি নিজেকে তৃণমূলের ব্লক নেতা বলে দাবী করে সভাধিপতির উদ্দেশে বলেন, “আপনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দূত হিসাবে এসেছেন। আপনাকে আমাদের কিছু কথা বলার আছে। সেগুলি আপনাকে শুনতে হবে। আমরাও দলের সৈনিক। আমি নিজেই এখানকার বুথের জেনারেল সেক্রেটারি। সাধারণ মানুষও আছেন। আমাদের এখানে ১৫ বছর ধরে তৃণমূলের প্রধান আছেন। তিনবারের প্রধান আমাদের। কিন্তু এতগুলো বছর পঞ্চায়েত থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার রাস্তার কোনও উন্নয়ন হল না। ভোটের সময় বললে বলে, সব কাজ হয়ে যাবে। ভোট পেরিয়ে গেলে আমাদের সঙ্গে কুকুরছানার মতো ব্যবহার করে। একটাই অনুরোধ, রাস্তাটা করে দিন”।





