লকডাউনের সময় দিন কেটেছে আধপেটা খেয়ে, মাধ্যমিকে দশম স্থান অধিকার করে সকলকে চমকে দিল টোটো চালকের ছেলে

বাবা পেশায় একজন টোটো চালক। নানান প্রান্তে ঘুরে ঘুরে টোটো চালিয়ে যা রোজগার হয়, তা দিয়েই কোনওরকমে দিন কাটে। কিন্তু লকডাউনের সময় সেই সামান্য আয়ও বন্ধ হয়ে যায়। সংসার কীভাবে চলবে, তা ভেবে যেন কোনও রাস্তাই খুঁজে পেতেন না পরিবারের সকলে। কোনওক্রমে আধপেটা, আধবেলা খেয়ে দিন কেটেছে। কিন্তু এরই মধ্যে ছেলে পেয়েছে বড় সাফল্য।

বর্ধমানের আলমগঞ্জের একটি ছোট্ট একতলা বাড়িতে থেকেই স্বপ্ন দেখা শুরু শৌনকের। জীবনে নানান প্রতিকূলতা এসেছে বটে, কিন্তু কোনওভাবেই পড়াশোনাকে বাদ দেয়নি সে। আলমগঞ্জ সিএমএস স্কুলের পড়ুয়া সে। বরাবর পরীক্ষায় দ্বিতীয় হয়ে এসেছে।

তবে মাধ্যমিকে বাজিমাত করল শৌনক। এবারের মাধ্যমিকে তার প্রাপ্ত মোট নম্বর হল ৬৮৪। দশম স্থান অধিকার করেছে শৌনক। ভূগোলে পেয়েছে ১০০। অঙ্ক, বাংলা ও ভৌতবিজ্ঞানে তার প্রাপ্ত নম্বর ৯৯। আর জীবনবিজ্ঞান ও ইংরেজিতে শৌনক পেয়েছে ৯৬।

শৌনকের কথায় টেক্সট বই ভালোভাবে খুঁটিয়ে পড়তেই হবে ভালো ফল করার জন্য। আর প্রশ্ন-উত্তর লেখা অভ্যাস করা খুব দরকার। শৌনক জানায় সে তার পড়তে বসার নির্দিষ্ট কোনও সময় ছিল না। ইচ্ছে হলেই পড়তে বসত সে। খেলাধুলার প্রতিও বেশ আগ্রহ রয়েছে শৌনকের। তাছাড়া, তার একটি নেশা হল পুরনো কয়েন সংগ্রহ করা।  

ছেলে জীবনের প্রথম পরীক্ষায় এমন বড় সাফল্য পেয়েছে। বেজায় খুশি শৌনকের মা-বাবা। তার মা জানান, “ছেলেকে স্কুলের শিক্ষকরা খুবই সহযোগিতা করেছেন। দরকার হলেই ও শিক্ষকদের ফোন করত। মাইনে দিয়ে ছেলেকে গৃহশিক্ষক দেওয়ার ক্ষমতা আমাদের ছিল না। কোনও দিনই ওকে পড়তে বসতে বলতে হয়নি। সংসারে অভাব থাকলেও ওর পড়াশোনায় তার কোনও প্রভাব পড়েনি। ও ছোট থেকেই সবকিছু বোঝে। কখনওই কোনও কিছু কিনে দেওয়ার জন্য জেদ ধরেনি। লকডাউনের সময় স্কুল বন্ধ ছিল। সেই সময় এক আত্মীয় ওঁকে মোবাইল উপহার দিয়েছিল। সেটা ও শুধু অনলাইন ক্লাস করার সময়ই ব্যবহার করত। অন্য সময় মোবাইল হাতে নিত না”।

শৌনকের মায়ের ইচ্ছা ছেলে বড় হয়ে চিকিৎসক হোক। তাহলে তাদের মতো অনেক অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পারবে তাঁর ছেলে। তবে শৌনকের ইচ্ছা আইএএস অফিসার হওয়ার। তাঁর মতে, এমনটা হলে তাহলে সে আরও অনেক বেশি সংখ্যক মানুষের সাহায্য করতে পারবে।

RELATED Articles

Leave a Comment