কোনও ঘোষণা নেই, তবু থমকে ট্রেন! দমদমে আচমকা বিভ্রাটে অফিসযাত্রীদের চরম দুর্ভোগ!

প্রতিদিনের মতোই শনিবার সকালে যাত্রীরা স্টেশনে এসে দাঁড়িয়েছিলেন নির্দিষ্ট ট্রেন ধরবেন বলে। কিন্তু প্ল্যাটফর্মে দাঁড়াতেই বোঝা গেল, কিছু একটা সমস্যা হয়েছে। ট্রেন আসছে, কিন্তু গন্তব্যের দিকে এগোচ্ছে না। অফিস টাইম, তাড়া আছে, কিন্তু সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেন একটুও নড়ছে না। বারবার ঘোষণা হচ্ছে, কিন্তু তাতেও স্পষ্ট কোনো উত্তর মিলছে না। ফলে যাত্রীরা দিশেহারা হয়ে পড়েন। কেউ কেউ অপেক্ষা করতে বাধ্য হন, আবার কেউ অন্য যাতায়াতের ব্যবস্থা খুঁজতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

গত কয়েক মাসে বারবার ট্রেন বাতিলের ঘটনা ঘটেছে, বিশেষ করে শিয়ালদহ ও হাওড়া শাখায়। কখনও ইঞ্জিনের সমস্যা, কখনও ওভারহেড লাইনের মেরামত, তো কখনও সিগন্যালিং ত্রুটি—নিত্যযাত্রীদের কাছে এসব এখন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে শনিবারের ঘটনা একটু আলাদা। কারণ এদিন বাতিলের ঘোষণা হয়নি, অথচ একের পর এক ট্রেন দাঁড়িয়ে পড়েছে লাইনের উপর। ফলস্বরূপ, নিত্যযাত্রীরা চরম অসুবিধার সম্মুখীন হন। সকালবেলা সময় নষ্ট হওয়ায় অনেকেরই অফিসে পৌঁছনো নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ে।

রেল সূত্রে খবর, এদিন দমদম স্টেশনের তিন নম্বর আপ লাইনে আচমকা সিগন্যালিং সমস্যার সৃষ্টি হয়। স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা পুরোপুরি বিকল হয়ে যাওয়ায় রেল কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে ম্যানুয়ালি ট্রেন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু এই প্রক্রিয়া অনেক সময়সাপেক্ষ, ফলে একের পর এক ট্রেন লাইনের উপর দাঁড়িয়ে পড়ে। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই স্টেশনজুড়ে যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। ট্রেন কোথায় দাঁড়িয়ে আছে, কখন ছাড়বে, সে বিষয়ে যথাযথ তথ্য না পাওয়ায় সমস্যার মাত্রা আরও বাড়ে।

সকাল থেকেই দেরিতে চলা ট্রেন পরিষেবা নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দেয়। নৈহাটি থেকে আসা রাজীব ঘোষ বলেন, “শনিবার বলে একটু দেরি করে বেরিয়েছিলাম, কিন্তু এখন যা অবস্থা, তাতে অফিসের সময় পেরিয়ে যাবে। কেউ কিছু ঠিক করে বলতে পারছে না।” এমন পরিস্থিতির মুখে পড়েন আরও অনেকেই। কয়েকটি স্টেশনে আরপিএফ কর্মীদেরও যাত্রীদের সামাল দিতে দেখা যায়। অনেকে বাধ্য হয়ে বাস বা ক্যাব ধরার চেষ্টা করেন, কিন্তু আচমকা ভিড় বেড়ে যাওয়ায় সেখানেও সমস্যা দেখা দেয়।

আরও পড়ুনঃ ঠান্ডা-মাখানো সকাল, গরমে ঝলসানো দুপুর! আর কতদিন চলবে এই খামখেয়ালি আবহাওয়া?

রেল কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নেয় এবং যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সিগন্যালিং সমস্যার সমাধান করা হয়। প্রায় এক ঘণ্টার প্রচেষ্টার পর, সকাল ৯টা ৫৬ মিনিট নাগাদ ট্রেন চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে। তবে সকালবেলা অফিস টাইমে এমন ঘটনার ফলে বহু মানুষ সমস্যায় পড়েন। বারবার এই ধরনের সমস্যার পুনরাবৃত্তি হওয়ায় নিত্যযাত্রীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে—রেলের পরিকাঠামো আদৌ উন্নত হচ্ছে কি? নাকি ভবিষ্যতেও এভাবেই সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে?

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles