গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েও ইস্তফা দিতে নাছোড়বান্দা শতাব্দী রায়ের! বিপাকে তৃণমূল

তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়ের রাগ হয়েছিল। ক্ষোভ জমেছিল পাহাড়প্রমাণ। আর তাই এতদিন চুপ করে থাকার পর হঠাৎই  পালাবদলের রাজনীতিতে সুযোগ বুঝে বিজেপিতে যাওয়ার সম্ভাবনা উস্কে দিয়েছিলেন তিনি। আর ব্যাস, তাতেই কার্যসিদ্ধি! তৃণমূলের তরী দুলিয়ে শতাব্দীকে যেতে দিতে নারাজ ছিলেন শাসক নেতৃত্ব। মান ভাঙাতে ময়দানে অবতীর্ণ হয় তৃণমূলের হাইকমান্ড।

আর তারপর‌ই শতাব্দীকে বড় দায়িত্ব দেয় তৃণমূল। তাঁকে দলের রাজ্য কমিটির সহ সভাপতি করে শাসক দল। কিন্তু এত বড় পদ পেয়েও নিজের অবস্থান থেকে টললেন না শতাব্দী।

নতুন পদপ্রাপ্তির পর তারাপীঠ সফরে গিয়ে শতাব্দী রায় বুঝিয়ে দিলেন নিজের অবস্থান থেকে তিনি সরবেন না। তেমনই সাংসদকে এড়িয়ে স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রীও বুঝিয়ে দিলেন তাঁরাও অনড় l

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, শুক্রবার বিদ্রোহে ইতি টানার পর শনিবার শতাব্দীকে তৃণমূলের রাজ্য কমিটির সহ সভাপতির পদ দেয় ঘাসফুল শিবির। আর তারপর রবিবার নিজের সংসদীয় এলাকার মধ্যে তারাপীঠ মন্দিরে পুজো দিতে আসেন সাংসদ। সেখানে তিনি জানান, তারাপীঠ উন্নয়ন পর্ষদে থাকতে চান না তিনি। যেখানে তাঁর মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই সেখানে থেকে তাঁর লাভ কী? এক‌ই সঙ্গে শতাব্দী বলেন, আমি আগেই তারাপীঠ উন্নয়ন পর্ষদের সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছি। এই ডামাডোলের মধ্যে ফের ইস্তফা দিলে সমস্যা হতে পারে। কিন্তু আমি ওই পদে থাকতে চাই না। বলে রাখি, তারাপীঠ উন্নয়ন পর্ষদের সভাপতি স্থানীয় বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়।

তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, এদিন শতাব্দীর গোটা সফরে আশিসবাবুকে তাঁর ধারে কাছে দেখা যায়নি। সাংসদ যখন তারাপীঠে তখন তিনি কলকাতার উদ্দেশে রওনা হয়ে যান বলে খবর। তবে সাংসদের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, তারাপীঠ উন্নয়ন পর্ষদে যথেষ্ট কাজ হয়। করোনার জন্য গত ১ বছরে কাজের গতি কিছুটা কমেছে। কিন্তু পর্ষদের শেষ বৈঠকেও সাংসদের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপে শতাব্দী অভিমান কমলেও কাজ করতে পারছেন না তত্ত্বে অনড় তিনি! কিভাবে বদলাবে শতাব্দী- তৃণমূলের সম্পর্কের সমীকরণ?

RELATED Articles