রক্ষকই যখন ভক্ষক! দুই বিএসএফ জওয়ানের লালসার শিকার মহিলা, কোলের শিশুকে ছুঁড়ে ফেলে ক্ষেতে নিয়ে গিয়ে গণধ’র্ষ’ণ মহিলাকে

মহিলাকে পটল ক্ষেতের মধ্যে টেনে নিয়ে গিয়ে তাঁকে গণধ’র্ষ’ণের অভিযোগ উঠল বিএসএফের এক এএসআই ও এক কনস্টেবলের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে দশটা নাগাদ উত্তর ২৪ পরগণার বাগদা থানার জিতপুর সীমান্তে। গতকাল, শুক্রবার ওই মহিলা পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন। এদিন দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আজ, শনিবার তাদের বনগাঁ মহকুমা আদালতে তোলা হবে বলে জানা গিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, ওই দুই ধৃতের নাম আলতাফ হোসেন এবং এস পি চেরো। চেরো এসআই পদে রয়েছে আর আলতাব হল কনস্টেবল। ধৃতরা বিএসএফের ৬৮ নম্বর ব‌্যাটেলিয়নে কর্মরত। পুলিশ জানায় যে গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে দশটা নাগাদ ২৩ বছরের এক মহিলা জিতপুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সেই সময় কর্তব্যরত বিএসএফ জওয়ানরা তাকে আটকায়।

অভিযোগ, এরপরই পাশের পটল ক্ষেতে নিয়ে যাওয়া হয় ওই তরুণীকে। সেখানে তাঁকে ওই দুই জওয়ান ধ’র্ষ’ণ করে বলে অভিযোগ। জানা গিয়েছে, ওই ঘটনার সময় তরুণীর কোলে একটি শিশু ছিল। তাকে ছুঁড়ে ফেলে দেয় ওই দুই বিএসএফ জওয়ান। জানা গিয়েছে, ওই মহিলার বাড়ি বসিরহাটে। বিএসএফ-এর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এই বিষয়টি জানিয়েছে পুলিশ।

এই বিষয়ে বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, “যাদের উপর সুরক্ষার দায়িত্ব তারাই যদি এভাবে ধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ে, তাহলে সীমান্তে কে নিরাপত্তা দেবে? এই ঘটনায় বোঝা যায় সীমান্তে বিএসএফ কী করে বেড়ায়। আসলে কেন্দ্রীয় সরকার যেরকম উচ্ছৃঙ্খলতার সঙ্গে চলছে তার প্রভাব পড়ছে কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলির উপরেও। ধৃত দু’জনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত”।

এই বিষয়ে বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, “এর আগে কাশ্মীরে সেনার বিরুদ্ধে একাধিক এধরনের অভিযোগ ছিল। বেশিরভাগই মিথ্যে। তবে এই ঘটনাটি জানিনা সত্যি নাকি মিথ্যে যদি সত্যি হয়ে থাকে তবে তা ভয়ংকর অপরাধ। উপযুক্ত শাস্তি হওয়া উচিত”।

ঘটনা প্রসঙ্গে বনগাঁ জেলা পুলিশ সুপার তরুণ হালদার জানান, “মহিলার লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়েছে। বিএসএফের দুই জওয়ান গ্রেপ্তার। মহিলার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে”।

জানা গিয়েছে, এই ঘটনার পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নির্যাতিতা তরুণী। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন তিনি। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে খবর। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠে যে যাদের হাতে আমাদের রক্ষা করার ক্ষমতা, তারাই যদি এমন ঘটনায় যুক্ত থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ কাদের কাছে নিরাপত্তা চাইবে।

RELATED Articles