Kidney Smuggling : অপারেশন টেবিলেই কিডনি গায়েব! ঘুষ কাণ্ডে ধৃত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগে তোলপাড়!

স্বাস্থ্য ব্যবস্থা মানেই ভরসা। আর সেই ভরসার ভিতরেই যদি লুকিয়ে থাকে ভয়ানক ষড়যন্ত্র, তবে সাধারণ মানুষের কীই বা করণীয়? হাসপাতালের বেড মানেই আশার আলো, কিন্তু যখন সেই আশার আলো নিভে যায় বিশ্বাসঘাতকতার কালো ছায়ায়, তখন আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তা গ্রাস করে মন। আমাদের রাজ্যের বেশ কিছু হাসপাতালে সম্প্রতি একের পর এক ভয়ঙ্কর দুর্নীতির খবর উঠে আসছে সামনে, যা সাধারণ মানুষের বিশ্বাসে বড়সড় ধাক্কা দিচ্ছে।

প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে ভর্তি হওয়া এক মহিলা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে জানলেন, তাঁর শরীর থেকে গায়েব একটি কিডনি! অবিশ্বাস্য এই ঘটনা ঘটেছে কলকাতার একটি নামী বেসরকারি হাসপাতালে। প্রসূতির অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমেই চোখ কপালে উঠেছে গোয়েন্দাদের। জানা যাচ্ছে, যে চিকিৎসক ওই অপারেশন করেছিলেন, তিনি শুধু একজন ডাক্তার নন, বরং একটি বৃহৎ চক্রের অন্যতম মুখ। সিজারিয়ানের ছুতোয় তাঁর শরীরের একটি অঙ্গ কেড়ে নেওয়া হয়েছে, এমন অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী। এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগকে কেন্দ্র করে ফের প্রশ্নের মুখে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা।

সিবিআই সূত্রে খবর, ধৃত চিকিৎসকের নাম তপন কুমার জানা। তিনি মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজের অ্যানাটমি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এবং জাতীয় মেডিক্যাল কাউন্সিলের মূল্যায়নকারী পদেও ছিলেন। অভিযোগ, শুধু রোগীদের সঙ্গে প্রতারণাই নয়, মোটা টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজের পরিকাঠামোগত রিপোর্টে কারচুপিও করতেন তিনি। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, কলকাতা, বর্ধমান ও কর্নাটকের বেলগাভির ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয়েছে ৪৪.৬০ লক্ষ নগদ টাকা। যার উৎস খুঁজতে গিয়ে সামনে এসেছে এক ভয়ঙ্কর কিডনি পাচার চক্রের হদিশ।

তদন্তকারী অফিসারদের দাবি, সম্প্রতি একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের পরিকাঠামো অনুমোদনের জন্য ১০ লক্ষ টাকা ঘুষ নিচ্ছিলেন তপনবাবু। এই খবর পেয়ে পরিকল্পনা করে তাঁকে হাতে নাতে ধরার ছক কষে সিবিআই। অবশেষে গত রবিবার ঘুষ নেওয়ার সময়ই তাঁকে পাকড়াও করেন গোয়েন্দারা। সেই সূত্র ধরেই উঠে আসে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। অপারেশন টেবিলে রোগীদের অজান্তে কিডনি পাচারের প্রমাণ পেয়ে হতবাক গোয়েন্দারাও। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে একাধিক বেসরকারি হাসপাতাল এবং আরও কিছু চিকিৎসক, এমন আশঙ্কাও করা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ Birbhum news : বিধানসভার আগে তৃণমূলে ভয়াবহ ভাঙন! অনুব্রত মণ্ডলকে সরানোর পর বিজেপিতে গেল ২৫০ পরিবার!

এই ঘটনার জেরে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে প্রবল উদ্বেগ। সিবিআই ইতিমধ্যে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট স্টাফদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে। ধৃত চিকিৎসককে জেরা করে আরও কে কে এই চক্রে জড়িত তা জানার চেষ্টা চলছে। স্বাস্থ্য পরিষেবা ও চিকিৎসকদের প্রতি মানুষের বিশ্বাসে বড়সড় ধাক্কা এই ঘটনা। তপন কুমার জানার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ যদি সত্যি প্রমাণিত হয়, তবে একে শুধু দুর্নীতি নয়, মানবতার বিরুদ্ধেই এক নির্মম অপরাধ বলা চলে।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles