বিগত এক বছর ধরে আলোচনার কেন্দ্রে থাকা তিলোত্তমা কাণ্ড ফের নতুন মোড় নিল। একদিকে কন্যা হারানোর বেদনা, অন্যদিকে ন্যায়বিচারের লড়াই—সব মিলিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছেন তিলোত্তমার বাবা-মা। তবে এবার সেই ঘটনাকে ঘিরে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে অন্য খাতে। সরাসরি আদালতে গেলেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ।
কুণাল ঘোষের দাবি, সম্প্রতি তিলোত্তমার বাবা সংবাদমাধ্যমের সামনে একাধিক মন্তব্য করেছেন, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সিবিআই তদন্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকার টাকা দিয়ে তদন্ত চেপে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, কুণাল ঘোষের নাম টেনে তিনি বলেন, কুণাল নিজে সিজিও কমপ্লেক্সে গিয়ে ‘সেটেলমেন্ট’ করিয়েছেন। এই মন্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা শুরু হয়।
এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রথমে আইনি নোটিস পাঠান কুণাল ঘোষ। গত ১২ অগস্ট পাঠানো সেই নোটিসে স্পষ্ট জানানো হয়েছিল, চার দিনের মধ্যে জবাব না এলে আদালতের শরণাপন্ন হবেন তিনি। তিলোত্তমার বাবার পক্ষ থেকে কোনো জবাব না আসায় শেষমেশ কুণাল ঘোষ ব্যাঙ্কশাল আদালতে মানহানির মামলা দায়ের করেন। তাঁর বক্তব্য, ‘‘মিথ্যাচার ও নাটকের সব সীমা পার করেছেন উনি।’’
উল্লেখ্য, গত বছরের ৯ অগস্ট আরজি করের সেমিনার হল থেকে তিলোত্তমার মৃতদেহ উদ্ধারের পর কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্ত শুরু করে সিবিআই। তবে সেই তদন্তের গতি নিয়ে শুরু থেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছেন তিলোত্তমার বাবা-মা। সম্প্রতি তাঁরা দিল্লিতে গিয়ে সিবিআই ডিরেক্টর প্রবীণ সুদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। তাঁদের অভিযোগ, সিবিআই নিজেই মামলাটি থেকে সরে আসতে চাইছে।
আরও পড়ুনঃ রাত সাড়ে ১০টায় বুক করা অ্যাপ বাইক! ফাঁকা রাস্তায় অ্যাপ বাইকচালকের দুর্ব্যবহার, তরুণীর সাহসী জবাবে থমকে গেলেন চালক
এখানেই শেষ নয়। কুণাল ঘোষ একাধিকবার প্রকাশ্যে বলেছেন, তিলোত্তমার বাবা-মা একটি রাজনৈতিক দলের প্রভাবে কাজ করছেন। বিজেপিকে পাশে নিয়েই তাঁরা গত বছরের ৯ অগস্ট নবান্ন অভিযান করেছিলেন বলেও কুণালের অভিযোগ। অন্যদিকে, তিলোত্তমার বাবা নিজের অবস্থানে অনড় থেকে বলেছেন, সিবিআইকে প্রভাবিত করা হচ্ছে এবং সত্য গোপন করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে কন্যাহারা পরিবারের শোকের সঙ্গে এখন জুড়েছে নতুন এক আইনি লড়াই, যার রায়ের দিকেই এখন তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।





