Netaji Subhas Chandra Bose: পাঠ্যবইয়ে ইতিহাস বিকৃতি! নেতাজিকে ‘ভীতু’ দেখানোয় তীব্র ক্ষোভ, বিজেপি-চন্দ্রকুমার বসুর আক্রমণে চাপে পিনারাই সরকার!

ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর নাম এক অমর অধ্যায়। তাঁর সাহস, আত্মত্যাগ আর দূরদর্শী নেতৃত্ব আজও প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে। কিন্তু সম্প্রতি কেরলে একটি পাঠ্যবইকে ঘিরে তৈরি হয়েছে প্রবল বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, সেখানে নেতাজির চরিত্র ও ভূমিকা সম্পর্কে ইতিহাসবিরোধী দাবি করা হয়েছে। আর সেই অভিযোগ ঘিরেই শোরগোল রাজ্য জুড়ে।

ঘটনার সূত্রপাত কেরলের চতুর্থ শ্রেণির পরিবেশ বিজ্ঞান বইয়ের একটি খসড়া সংস্করণ ঘিরে। ‘টিচার্স হ্যান্ডবুক’ হিসেবে প্রকাশিত সেই বইতে উল্লেখ করা হয়েছে, “ইংরেজদের ভয়ে জার্মানি পালিয়ে গিয়েছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু।” এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই স্বাভাবিকভাবেই বিস্ময় ছড়ায় নানা মহলে। স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম লড়াকু নেতাকে ভীতু বলে চিত্রিত করার এই প্রয়াসকে অনেকেই ইতিহাস বিকৃতির সমান বলে মন্তব্য করেছেন।

বিতর্ক শুরু হতেই দ্রুত সাফাই দিয়েছে কেরলের পিনারাই বিজয়ন সরকার। রাজ্যের শিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বইয়ের খসড়ায় যে ভুল তথ্য উঠে এসেছে, তা সঙ্গে সঙ্গে সংশোধন করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, বই প্রস্তুতির দায়িত্বে থাকা কমিটির সদস্যদের শিক্ষা সংক্রান্ত কাজ থেকে আপাতত বিরত রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। কেরলের শিক্ষামন্ত্রী ভি শিবকুট্টি জানান, “কিছু ঐতিহাসিক ভুল ধরা পড়েছিল। তাই সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক স্বার্থে ইতিহাস বিকৃতির পথে কেরল সরকার বিশ্বাসী নয়।”

তবে সরকারের এই পদক্ষেপে বিতর্ক থামেনি। নেতাজির প্রপৌত্র চন্দ্রকুমার বসু প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেছেন, ইংরেজদের ভয়ে নেতাজি বিদেশে পালিয়েছিলেন বলে দাবি একেবারেই অমার্জনীয়। তাঁর মতে, “INA-ই ছিল স্বাধীনতার শেষ যুদ্ধের সেনা, সেই ইতিহাস বিকৃত করা মানা যায় না।” অন্যদিকে বিজেপি-ঘনিষ্ঠ ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ অভিযোগ করেছে, কেরলের সিপিএম সরকার ইচ্ছাকৃতভাবেই বিকৃত ইতিহাস পড়াচ্ছে পড়ুয়াদের। তাঁদের দাবি, একই বইয়ের মানচিত্রে অসম ও ঝাড়খণ্ডের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যা দেশের অখণ্ডতার জন্য বিপজ্জনক বার্তা বহন করছে।

আরও পড়ুনঃ RG KAR case : তিলোত্তমা কাণ্ডে বিস্ফোরক অভিযোগের জবাব! বাবার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করলেন কুণাল ঘোষ!

কেরল সরকারের দাবি, ভুল শুধরে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ইতিহাসবিদ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছেন, এত বড় মিথ্যা তথ্য খসড়ায় ঢুকে পড়ল কীভাবে, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো অমীমাংসিত। শিক্ষামূলক বই তৈরির মতো গুরুতর কাজে এত গাফিলতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে কিনা, তা নিয়েই উদ্বেগ বাড়ছে। আর তাই শুধু সংশোধন নয়, এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও কড়া পদক্ষেপের দাবিও উঠছে জোরালোভাবে।

RELATED Articles