লোকসভা ভোটের আগে বড় ধাক্কা তৃণমূলে! আচমকাই পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সাংসদ দেব, রাজনীতি ছাড়ার জল্পনাই কী তবে সত্যি?

সামনেই লোকসভা নির্বাচন। এর আগে ঘাসফুল শিবিরে এল বড় ধাক্কা। আচমকাই পদ থেকে ইস্তফা দিলেন তৃণমূল তারকা-সাংসদ দীপক অধিকারী ওরফে দেব। বেশ কিছুদিন ধরেই জল্পনা ছড়াচ্ছিল যে দেব হয়ত রাজনীতি ছাড়তে পারেন, এমনকি আগামী লোকসভা নির্বাচনে তাঁর লড়া নিয়েও তৈরি হয়েছিল জল্পনা। এবার কী তবে সেই জল্পনাই সত্যি হতে চলেছে? সত্যিই কী তৃণমূলের হাত ছাড়ছেন ঘাটালের সাংসদ?

জানা গিয়েছে, নিজের সংসদীয় এলাকার তিন প্রশাসনিক পদ থেকে আচমকাই ইস্তফা দিয়েছেন দেব। গতকাল, শনিবার ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালের রোগীকল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান পদ, ঘাটাল রবীন্দ্র শতবার্ষিকী মহাবিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট পদ ও বীরসিংহ উন্নয়ন পর্ষদের সহ সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন সাংসদ দীপক অধিকারী। তাঁর এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই শুরু হয়েছে নানান জল্পনা।

কেন হঠাৎ এই ইস্তফা?

সূত্রের খবর, ঘাটাল উৎসব থেকে শুরু করে নানান বিষয়েই নাকি ইদানিং দেবকে না নিয়ে কাজ করতে চাইছে দলের এক গোষ্ঠী। এর জেরে দলের সঙ্গে বাড়ছিল দূরত্ব। দেব এই দূরত্ব মেটানোর চেষ্টা করলেও অন্য এক গোষ্ঠী তা চায়নি বলে খবর। এর উপর আবার তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক শঙ্কর দলুই ও তাঁর অনুগামীরা নাকি ঘাটাল রবীন্দ্র শতবার্ষীকি মহাবিদ‌্যালয়ের গভর্নিং বডির চেয়ারম‌্যান হিসেবে দেবকে মেনে নিতে পারেনি। তাঁর শিক্ষকতা যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।

এমনকি, ঘাটাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের চেয়ারম্যান পদেও দেবের বসা ভালোভাবে নেন নি তারা। এরই মধ্যে দেবের বিরুদ্ধে আরও এক অভিযোগ ওঠে। দেবের আমলে নাকি ঘাটাল কৃষি ব্যাঙ্কে ১০০ জন, ঘাটাল কলেজে ২২ জন ও ঘাটাল হাসপাতালে ৫০ জন কর্মী অবৈধভাবে চাকরি পেয়েছেন।

এই নিয়ে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ জমা পড়লে রাজ্য পুলিশের ডিজি দেবকে ফোন করে এই বিষয়ে জানতে চান। এরপরই ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে দেবের। জানা গিয়েছে, তিনি ডিজিকে বলেন, “আমি ওই পদগুলি থেকে পদত‌্যাগ করছি, আপনি তদন্ত করুন”। আর এরপরই ওই তিন পদ থেকে ইস্তফা দেন দেব।

এই বিষয়ে তাঁর প্রতিনিধি রামপদ মান্না বলেন, “দলেরই একটি অংশ সাংসদের বিরুদ্ধে লাগাতার মিথ‌্যা অভিয়োগ করে চলেছেন। সর্বশেষ তাঁর বিরুদ্ধে ব‌্যাঙ্ক, কলেজ ও হাসপাতালে অবৈধভাবে নিয়োগের অভিযোগ জমা পড়েছে। অথচ এই সময়ে এই প্রতিষ্ঠানগুলিতে কোনও নিয়োগই হয়নি। নিজের স্বচ্ছতা প্রমাণ করতে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি দলের একাংশের ভূমিকায় খুবই বিরক্ত। তাই এই পদত‌্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন”।

RELATED Articles