নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের (Amartya Sen) সঙ্গে জমি বিতর্ক নিয়ে সংঘাত এখনও চলছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের। এই বিতর্কের মাঝেই এবার আশ্রমিক, রাবীন্দ্রিক ও প্রাক্তনীদের নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী (Bidyut Chakraborty)। তাদের ভোগবাদী বলে কটাক্ষ করলেন উপাচার্য যা নিয়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে।
আজ, বুধবার বিশ্বভারতীর উপাসনা গৃহ থেকেই উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী বলেন, “প্রাক্তনী, আশ্রমিক, রাবীন্দ্রিকরা ভোগবাদী। বিশ্বভারতীতে সবাই নিজের নিজের আখেড় গোছাতে আছে। কেউ দায়িত্ব নিতে চায় না। ২০১৯ সালে আমি প্রাক্তনী, আশ্রমিক, রাবীন্দ্রিকদের বিশ্বভারতীর উন্নয়নে এগিয়ে আসতে বলেছিলাম। তাঁদের কারও সাড়া পাওয়া যায়নি”।
তিনি আরও বলেন, “২০২০ সালেও প্রাক্তনী, আশ্রমিক, রাবীন্দ্রিকদের বিশ্বভারতীর পাশে থাকতে বলেছিলাম। সে সময় ১০০ জনেরও বেশি আমাকে ৩০ দফা দাবি জানিয়েছিল। সেই কাগজ আমার কাছে আছে। বলা হয়েছিল আমাদেরকে বিশ্বভারতীর অনুষ্ঠান করতে দিতে হবে। অর্থাৎ বিশ্বভারতী ভোগ করতে দিতে হবে। আমি যখন অধিকারের জায়গায় কর্তব্য পালন করতে বলি, তখন তাঁদের কাউকে দেখা যায় না। এখন কেউ যোগাযোগও করেন না আর”।
রবীন্দ্রনাথের বংশধর তথা শান্তিনিকেতনের প্রবীণ আশ্রমিক সুপ্রিয় ঠাকুর বিশ্বভারতীর আচার্য তথা দেশের প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে কাতরভাবে আবেদন করেন। তাঁর বক্তব্য, “বিশ্বভারতীকে বাঁচান, বিশ্বভারতী ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে”। তিনি বলেন, “উনি (উপাচার্য) এই ধরনের কথা প্রায়শই বলে থাকেন। উপাচার্য মনে করেন, এখানকার প্রাক্তনরা অচ্ছুৎ। তিনিই একমাত্র মানুষ যিনি বিশ্বভারতীকে ভালবাসেন। আমি তাঁর কথায় খুব একটা গুরুত্ব দিই না। রবীন্দ্রনাথ নিয়ে আর একটু পড়াশোনা করা দরকার”।
অমর্ত্য সেনের জমি বিতর্কের মাঝেই বিশ্বভারতীর উপাচার্যের এহেন মন্তব্যে বেশ শোরগোল পড়েছে। কিছুদিন আগেই বীরভূম সফরে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় বিশ্বভারতীর আন্দোলনকারী আশ্রমিক ও প্রাক্তনীদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন তিনি।
এরপর এক সভায় মমতা বলেন, “রবীন্দ্রনাথের বংশধর সুপ্রিয় ঠাকুর আমার কাছে দুঃখ করছিলেন, তাঁর বাড়ির সামনেও পাঁচিল তুলে দিয়েছেন। বিশ্বভারতীকে গৈরিকীকরণ করতে চান ওঁরা”। সেদিন সন্ধ্যাতেই বিশ্বভারতীর তরফেও একটি প্রেস বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। শাসক দলের তরফে সেই বিবৃতির নিন্দা করা হয়েছিল।





