পশ্চিমবঙ্গের (west bengal) রাজনৈতিক পরিবেশ বরাবরই উত্তেজনা ও বিতর্কের কেন্দ্রে থাকে। রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস একদিকে উন্নয়নের বার্তা দিলেও, দলীয় কর্মীদের কিছু কার্যকলাপ প্রায়শই প্রশ্নের মুখে পড়ে। বিশেষত, গ্রামীণ এলাকাগুলিতে শাসক দলের কার্যকলাপ নিয়ে বিরোধীরা নিয়মিত সমালোচনা করে। বীরভূম জেলা, যা রাজ্য রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে, সেখানে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং বিভিন্ন বিতর্ক বারবার খবরের শিরোনামে উঠে আসে।
সম্প্রতি বীরভূমের ময়ূরেশ্বর-২ নম্বর ব্লকের তৃণমূল কার্যালয়ে ব্লক সভাপতি প্রমোদ রায়ের বিরুদ্ধে মদ্যপানের অভিযোগ উঠেছে। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দলীয় কার্যালয়ে বসে প্রমোদ রায় সহ কয়েকজন ব্যক্তি মদ্যপান করছেন। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই শাসক দলের বিরুদ্ধে বিরোধীরা আক্রমণ শানিয়েছে। বিজেপির জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা এই ঘটনাকে তৃণমূলের সংস্কৃতি বলে কটাক্ষ করেছেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, এটি কোনও নতুন ঘটনা নয়; বরং প্রায়ই তৃণমূল কার্যালয়ে এমন দৃশ্য দেখা যায়।
বিষয়টি আরও বিতর্কিত হয় যখন তৃণমূলের জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ কার্যত এই ধরনের ঘটনার সত্যতা মেনে নেন। কাজল বলেন, ‘‘গত দু’বছর বীরভূমে কোনও অসামাজিক কাজ হয়নি। কিন্তু ইদানীং কিছু ঘটনা ঘটছে।’’ যদিও তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি, তার মন্তব্যে দলের অন্দরে অনুব্রত মণ্ডল ও তার ঘনিষ্ঠদের দিকেই ইঙ্গিত রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। জানা যায়, কাজল এবং অনুব্রতর সম্পর্ক প্রায়শই জল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে।
তৃণমূলের অন্দরে এই ঘটনার পর থেকেই উত্তেজনা তুঙ্গে। কাজল ঘনিষ্ঠ এক নেতার দাবি, ময়ূরেশ্বর-২ নম্বর ব্লকের কিছু এলাকায় এখনও অনুব্রতর অনুগামীরা একাধিপত্য কায়েম করার চেষ্টা করছে। তবে কাজল এ বিষয়ে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। অন্যদিকে, বিজেপি এই ঘটনার প্রেক্ষিতে দাবি করেছে, তৃণমূল কার্যালয় এখন ‘পার্টি’ করার জায়গায় পরিণত হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ আর কতদিন শীতের আমেজ? পারদে ওঠানামার নয়া খেলা, চমকপ্রদ ঘোষণা আবহাওয়ার!
ঘটনার সবচেয়ে বড় মোড় আসে ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পরে। জানা গিয়েছে, ভিডিওটি তুলেছেন একজন দলীয় কর্মীই। এই ঘটনায় দলের অন্দরমহলে প্রশ্ন উঠছে, দলের কর্মীরাই যদি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নেন, তবে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি কোথায় দাঁড়িয়েছে? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনা শুধু দলের ভাবমূর্তির ক্ষতি করছে না, বরং বিরোধীদের আক্রমণ আরও তীব্র করার সুযোগ দিচ্ছে।





