Murshidabad : বাংলার বাড়ি থাকবে, কিন্তু বাস করবে কে? নিরাপত্তা না থাকলে ফের দুষ্কৃতীদের দখলে জাফরাবাদ!

রাত হলেই এক অদৃশ্য ছায়া ঘিরে ধরে গোটা গ্রামকে। চারপাশে নিস্তব্ধতা, আর তার মধ্যেই যেন চাপা উত্তেজনা—কখন যে কী হয়ে যায়! ধুলিয়ানের জাফরাবাদ ও বেতবোনা গ্রামের বাসিন্দারা এখন এই চাপা আতঙ্ক নিয়েই দিন গুনছেন। কারও ঘর ভাঙা, কারও পরিবার ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আত্মীয়ের বাড়ি। যারা থেকে গিয়েছেন, তাঁরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন।

বাড়ির জানলা বন্ধ, দরজায় তালা, তবু মনটা শান্ত হচ্ছে না কিছুতেই। বিশেষ করে সন্ধ্যা নামলেই চিন্তার ভাঁজ আরও গভীর হয়। শিশুদের চোখেও আতঙ্ক। স্কুলে গেলেও পড়াশোনায় মন বসে না। ওরাও বুঝে গিয়েছে, চারপাশে কিছু একটা ভয়ঙ্কর ঘটেছে। এমনকি অনেকেই তো নিজেদের বাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন স্কুলঘরের ভেতর।

এই টানটান পরিস্থিতির মধ্যেই বুধবার প্রথমবার সরকারি তরফে জাফরাবাদে ঢোকে ত্রাণ। সামশেরগঞ্জের বিডিও নিজে উপস্থিত হয়ে ত্রিপল, জামাকাপড়, বাসনপত্র, স্কুলের পোশাক, খাবার ও শুকনো খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন গ্রামবাসীদের হাতে। স্থান হিসেবে বেছে নেওয়া হয় একটি স্কুল। সেখানে রান্না করা খাবার ও পানীয় জলের ব্যবস্থাও করা হয়। এই প্রথমবার সরকার নিজে থেকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্রিয় উদ্যোগ নিল বলেই মনে করছেন অনেকে।

একমাত্র সরকার নয়, পাশে দাঁড়িয়েছে বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও। কেউ নিয়ে এসেছেন রান্না করা খাবার, কেউ আবার দিয়েছেন চিকিৎসা সহায়তা। গ্রামে ঘুরে ঘুরে তাঁরা পৌঁছে দিচ্ছেন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। তবে মানুষ এখনও আতঙ্কে, এখনও নিশ্চিত নন—এই শান্তি কতদিন স্থায়ী হবে!

আরও পড়ুনঃ Weather update: ধেয়ে আসছে ঝড়! দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গ জুড়ে দুর্যোগের বার্তা!

ত্রাণ পেয়ে কেউ কেউ বলছেন, “মুখ্যমন্ত্রী যদি বাংলার বাড়ি প্রকল্পে আমাদের ঘর করে দেন, তাতেও খুশি হব। কিন্তু সেই ঘর যদি দুষ্কৃতীদের হামলায় ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে কী হবে?” এক মহিলার কণ্ঠে অসহায়তা—“বাহিনী যদি রাতে না থাকে, আমরা আর গ্রামে থাকতে পারব না।” প্রশাসন খাবার দিচ্ছে, ত্রাণও পৌঁছচ্ছে—কিন্তু নিরাপত্তা না থাকলে সেই সব কিছুর কোনও মানে থাকে না বলেই মনে করছেন গ্রামের সাধারণ মানুষ।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles