চৈত্রের শেষ লগ্নে দাঁড়িয়ে এমন হাওয়া বইবে—তা অনেকেই ভাবেননি। দুপুরে রাস্তায় বেরিয়ে যেমন রোদ্দুরে গরমে হাঁসফাঁস করতে হয়, তেমনই বিকেলের দিকেই আকাশ বদলে যাচ্ছে চোখের পলকে। কিছুক্ষণ আগেও যেটা ছিল ঝকঝকে রোদ্দুর, সেটা নিমেষেই ঢেকে যাচ্ছে ঘন মেঘে। কোথাও কোথাও আবার গরমের মধ্যেই পড়ছে হালকা বৃষ্টি, শুরু হচ্ছে বজ্র-বিদ্যুৎ। স্বাভাবিকভাবেই, এই রকম খামখেয়ালি আবহাওয়া সাধারণ মানুষকে যেমন কষ্ট দিচ্ছে, তেমনই চিন্তায় ফেলছে কৃষকদেরও।
শহরের মানুষের কাছে বৃষ্টি যতটা স্বস্তির, গ্রামাঞ্চলে সেটাই আবার সমস্যা তৈরি করছে। ফসল ঘরে তোলার ঠিক আগে এই ঝড়বৃষ্টি কোথাও কোথাও ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আবার যাঁরা রোজকার কাজে বাইরে বের হন, তাঁদের কাছে এই আকস্মিক বৃষ্টি বড় ভোগান্তির। যাতায়াত বিঘ্নিত হচ্ছে, গাড়ি চলাচলে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বাচ্চাদের স্কুলে যাতায়াত, অফিস ফেরত মানুষদের অসুবিধা—সব মিলিয়ে যেন গোটা রাজ্য জুড়ে একটা অনিশ্চয়তার আবহ।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার থেকে রবিবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বেশিরভাগ জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, দুই ২৪ পরগনা, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম সহ একাধিক জেলায় হলুদ সতর্কতা জারি হয়েছে। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম ও পশ্চিম বর্ধমানে কমলা সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর। বৃহস্পতিবার কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন ২৬.৮ ডিগ্রি। পরবর্তী পাঁচদিনে তাপমাত্রায় বড় কোনও পরিবর্তন হবে না বলেই জানিয়েছে দফতর। তবে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি থাকতে পারে।
শুক্রবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম জেলায় রয়েছে কমলা সতর্কতা। বাকি জেলাগুলিতে থাকবে হলুদ সতর্কতা। ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এবং পুরুলিয়াতে বজ্রবিদ্যুৎ সহ হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে। সেইসব এলাকায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গা, বড় গাছের নিচে, কিংবা টিনের ছাউনি ঘেরা জায়গায় না থাকার বার্তাও দিয়েছে দফতর।
আরও পড়ুনঃ Astrology: ধনী হওয়ার স্বপ্ন এবার সত্যি হতে পারে! এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে মহাযোগ, কোন ৩ রাশি হয়ে উঠবে ভাগ্যবান?
দক্ষিণের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের অবস্থাও বিশেষ ভালো নয়। আবহাওয়াবিদদের মতে, উত্তরবঙ্গে ঝড়-বৃষ্টির প্রকোপ দক্ষিণবঙ্গের চেয়েও বেশি হবে। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু করে পরবর্তী সাতদিন দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার সহ সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার হলুদ সতর্কতা জারি হয়েছে সব জেলায়। শুক্রবার ও শনিবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও কালিম্পংয়ে বজ্রসহ হালকা বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পক্ষ থেকে রাজ্যবাসীকে সতর্ক থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে।






