স্কুল বললেই আমাদের মনে পড়ে পড়াশোনার পরিবেশ, ছাত্রছাত্রীদের কোলাহল, শিক্ষকদের পাঠদান। একটা শিশুর ভবিষ্যৎ তৈরি হয় এই শিক্ষাঙ্গনে। কিন্তু কখনও কি ভাবা যায়, একটা স্কুলের ক্লাসরুম দখল করে বসে আছে পুলিশ? আর ছাত্ররা যেখানে পড়াশোনা করবে, সেখানে তাদের পাঠ চলছে রান্নাঘরে? এই চমকপ্রদ অথচ বাস্তব ঘটনা ঘটছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সবং ব্লকের দুবরাজপুর পূর্ব মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্রে।
একটা সময় এই স্কুলটি প্রাণচঞ্চল ছিল। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের তত্ত্বাবধানে ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও অন্যান্য কার্যকলাপে যুক্ত থাকত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি বদলেছে। এখন স্কুলের গেট দিয়ে ঢুকলেই বোঝা যায়, এখানে শিক্ষার পরিবেশ অনেক আগেই বিলীন হয়েছে। চারদিকে নীরবতা, পড়ুয়া নেই বললেই চলে। স্কুলের আসল পরিচয় যেন হারিয়ে যেতে বসেছে।
২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এই স্কুলটি প্রথমদিকে যথেষ্ট ভালোভাবে চলছিল। তবে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। ভোট-পরবর্তী হিংসার কারণে এখানে একটি পুলিশ ক্যাম্প তৈরি হয়। কেটে গিয়েছে বছর কয়েক, আরও একটি লোকসভা নির্বাচনও সম্পন্ন হয়েছে, কিন্তু সেই পুলিশ ক্যাম্প এখনও বহাল। ফলস্বরূপ, স্কুলটির ছাত্রসংখ্যা একেবারে কমে গেছে। ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে নামমাত্র পাঁচজন পড়ুয়া নথিভুক্ত রয়েছে, অথচ তারা নিয়মিত আসেও না।
স্কুলের শিক্ষক অনন্ত খাটুয়া জানিয়েছেন, এখানে তিনটি ঘর রয়েছে, যার মধ্যে দুটি ঘরই পুলিশের দখলে। ফলে পড়ুয়ারা যখন স্কুলে আসে, তখন কখনও রান্নাঘরে, কখনওবা খোলা জায়গায় বসে পড়াশোনা করতে হয়। শিক্ষকেরা একাধিকবার প্রশাসনের কাছে পুলিশ ক্যাম্প তুলে নেওয়ার আবেদন করেছেন, কিন্তু তাতে কোনও লাভ হয়নি। শিক্ষার পরিবেশ একেবারে ধ্বংস হয়ে গেছে বলে অভিযোগ জানিয়েছেন অনেক অভিভাবকও।
আরও পড়ুনঃ ভোটে গোপন কারসাজি? বিধায়ক আক্রান্ত, ভুয়ো ভোট নিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি!
তবে কেবলমাত্র পুলিশ ক্যাম্পই দায়ী নয় বলে মত স্থানীয়দের একাংশের। বাসিন্দা শিবু জানা বলেন, “স্কুলে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নেই। ফলে অভিভাবকরাও সন্তানদের এখানে ভর্তি করাতে চাইছেন না।” সবং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মৌসুমী দাস বলেন, “শুধু এই স্কুল নয়, বেশিরভাগ মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্রই বন্ধ হওয়ার মুখে। উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় থাকার কারণে ছাত্রছাত্রীরা সেদিকেই ঝুঁকছে। তবে আমরা বিষয়টি নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করব, যাতে স্কুলটি আবার সচল করা যায়।” কিন্তু বাস্তবে এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।





