রাজ্যে আসন্ন ভোট সংক্রান্ত বড়সড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত মিলেছে। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ উদ্যোগ হিসেবে আসতে চলেছে স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (SIR)। যদিও সরকারি ভাবে এখনও ঘোষণা হয়নি, কমিশন সূত্রে ইঙ্গিত— পশ্চিমবঙ্গ যে কোনও দিন শুনতে পারে এই সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি। ইতিমধ্যেই এই প্রস্তুতির বার্তা রাজ্য থেকে পৌঁছে গিয়েছে দিল্লির জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে। ফলে, ভোটার তালিকা ও বুথের কাঠামোতে বড়সড় পরিবর্তনের প্রক্রিয়া প্রায় শেষের পথে।
বৃহস্পতিবার রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর থেকে দিল্লিতে পাঠানো হয়েছে বিস্তারিত চিঠি। তাতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে— পশ্চিমবঙ্গ এসআইআর প্রক্রিয়ার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। কিছু দিন আগে কমিশন রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছিল প্রস্তুতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাঠাতে। সারা রাজ্যের জেলা থেকে প্রাপ্ত রিপোর্ট একত্র করে সেই কাজ শেষ করেছে সিইও অফিস। মূলত বুথ প্রতি ভোটারের সংখ্যা ১,২০০-র মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশই ছিল প্রধান শর্ত।
এসআইআর ঘোষণার আগে বুথ পুনর্গঠনই ছিল শেষ ধাপ। রাজ্যে আগে বুথ সংখ্যা ছিল ৮০,৬৮০। নতুন তালিকা অনুযায়ী তা বাড়তে চলেছে প্রায় ১৪ হাজারেরও বেশি। ফলে বুথ সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ৯৪ হাজারেরও বেশি। ইতিমধ্যেই এই বুথ বৃদ্ধির তালিকা স্বীকৃত সব রাজনৈতিক দলের কাছে পাঠানো হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে বিধানসভা ভিত্তিক চূড়ান্ত তালিকা কমিশনে জমা দেবে সিইও অফিস। কমিশনের অনুমোদন পেলেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হবে।
এদিনই কমিশন রাজ্যের ২৯৩টি বিধানসভা কেন্দ্রের ২০০২ সালের ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে, কুলপি ছাড়া। প্রথম ধাপে ১০৩টি কেন্দ্রের তালিকা প্রকাশিত হলেও, বাকি অংশে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপি ও বীরভূমের তিন কেন্দ্রের (মুরারই, রামপুরহাট, রাজনগর) তালিকা পাওয়া যাচ্ছিল না। বীরভূমের তিনটি তালিকা মিললেও, কুলপির তালিকা এখনও নিখোঁজ।
আরও পড়ুনঃ 4 Bangladeshis nabbed by BSF: সীমান্ত পেরিয়ে ভারতীয় গ্রামে হামলা, বিএসএফের জালে ধরা পড়ল বাংলাদেশি পুলিশের কনস্টেবল!
সূত্রে খবর, কুলপির ২০০২ সালের ভোটার তালিকা যদি শেষ পর্যন্ত না পাওয়া যায়, তবে কমিশন বিকল্প হিসেবে ২০০৩ সালের খসড়া ভোটার তালিকাকে ভিত্তি করবে। তবে এই একটি কেন্দ্র ছাড়া বাকিগুলির জন্য ২০০২ সালের তালিকাই এসআইআরের মূল ভিত্তি হবে। ফলে এখন রাজ্যে বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধনের ঘোষণা কার্যত সময়ের অপেক্ষা।





