যোগী রাজ্যে এনকাউন্টারে খতম ‘ওয়ান্টেড অপরাধী’ গুফরান, ধরে দিতে পারলে পুরস্কার ছিল ১ লক্ষ টাকা

ফের যোগী রাজ্যে এনকাউন্টার। এর জেরে নিহত ‘ওয়ান্টেড ক্রিমিনাল’। এই অপরাধীর বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা ও ডাকাতির অভিযোগ ছিল। পুলিশের গুলিতে ঝাঁঝরা হল ওই অপরাধী।

উত্তরপ্রদেশ পুলিশ সূত্রে খবর, আজ, মঙ্গলবার ভোর ৫টা নাগাদ পুলিশের এক বিশেষ দল অভিযান চালায় কৌশাম্বি জেলায়। সেখানেই পুলিশের মুখোমুখি পড়ে যায় মহম্মদ গুফরান। পুলিশকে দেখেই গুলি চালাতে শুরু করে সে। পাল্টা গুলি চালায় পুলিশও। গুলি লেগে গুরুতর জখম হয় গুফরান। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসা চলাকালীন মৃত্যু হয় ওই অপরাধীর।

জানা গিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে একটি ৯ মিমি পিস্তল, ৩২ বোরের একটি পিস্তল, কিছু কার্তুজ ও একটি বাইক উদ্ধার করে পুলিশ। এই গুফরান ১৩টিরও বেশি মামলায় অভিযুক্ত ছিল বলে পুলিশ সূত্রে খবর। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে প্রতাপগড়ে এক সোনার দোকানের মালিককে গুলি করে দোকান লুঠ করার অভিযোগ ওঠে গুফরানের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনা সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছিল। গুফরানকে ধরিয়ে দিতে পারলে ১ লক্ষ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল প্রতাপগড়ের পুলিশ।

উত্তরপ্রদেশে এমন এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটায় ওই রাজ্যের বাসিন্দাদের একাংশ বেশ খুশি। তবে অন্য এক অংশ আবার এই বিচার পদ্ধতি নিয়ে বিরোধিতা করছেন। তাদের মতে, কোনও বিচার ছাড়াই অপরাধীদের হত্যা করার প্রবণতা বেশ বিপজ্জনক।

প্রসঙ্গত, যোগী আদিত্যনাথের আমলে উত্তরপ্রদেশে একের পর এক দাগী অপরাধীদের এনকাউন্টারে মৃত্যু হচ্ছে। এই ঘটনা সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। ২০১৭ সালের মার্চে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন যোগী আদিত্যনাথ। যোগী আদিত্যনাথ সরকারের আমলে গত ছ’বছরে, ১০,৭১৩ এনকাউন্টার হয়েছে উত্তরপ্রদেশে। সে এখনও পর্যন্ত উত্তর প্রদেশে ১৮৬ জনের এনকাউন্টারে মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৯৬ জনের বিরুদ্ধে হত্যার মতো গুরুতর অভিযোগ ছিল। এই ছয় বছরে, পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছে ৫,০৪৬ জন।

এর মধ্যেই দিল্লির তিহাড় জেলের মধ্যেই মৃত্যু হয়েছে কুখ্যাত গ্যাংস্টার টিল্লু তাজপুরিয়ার। উত্তরপ্রদেশের এনকাউন্টারে যারা নিহত হয়েছে, তারা সকলেই গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ছিল। বেশিরভাগই কুখ্যাত গ্যাংস্টার বা দলের সদস্য।

আরও অন্যান্য খবর