বীরভূমে ডেউচা পাঁচামি কয়লা ব্লকে ১ লাখ কর্মসংস্থান! ১০০ বছর রাজ্যে বিদ্যুতের কোনও অভাব হবে না, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের মুখে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।কর্মসংস্থান নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি।
ঘোষণা করলেন, বীরভূমে ডেউচা পাঁচামি কয়লা ব্লক তৈরি হয়ে যাওয়ার এক লাখ কর্মসংস্থান হবে। জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।এক‌ই সঙ্গে বলেন, সেই প্রকল্পের ফলে আগামী ১০০ বছর রাজ্যে বিদ্যুতের কোনও অভাব হবে না।
আজ‌ সোমবার বোলপুরে প্রশাসনিক সভায় ডেউচা পাঁচামিতে প্রস্তাবিত কয়লা খনি ব্লকের জমির প্রসঙ্গে জানতে চান মুখ্যমন্ত্রী। মহম্মদবাজারের যে প্রস্তাবিত খনি এলাকায় ইতিমধ্যে সমীক্ষা চালানো হয়েছে। যে রিপোর্ট সমীক্ষার রিপোর্টও মমতাকে পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সেই সমীক্ষা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সেই ভুল বোঝাবুঝি এখনও পুরোপুরি কাটেনি। তবে অসন্তোষের বিষয়ে জানতে পেরেই প্রশাসনের তরফ বাড়তি তৎপরতা নেওয়া হয়েছে। একাধিক বৈঠক করেন জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা। বীরভূমের জেলাশাসক বিজয় ভারতী আশ্বাস দেন যে জোর করে একচুলও জমি অধিগ্রহণ করা হবে না। সরকার কারও জমি কেড়ে নেবে না বলেও জেলা প্রশাসনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
আজ বোলপুরের প্রশাসনিক সভায় সেই এক‌ই আশ্বাসের কথা শোনান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ডেউচা পাঁচামিতে প্রস্তাবিত কয়লা খনি এলাকায় কারও জমি হাতছাড়া হবে না। তাছাড়া আপাতত ফাঁকা জমিতে কাজ শুরু করা যায় কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে পরবর্তী পর্যায়ের কাজের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হতে পারে। তবে তাতে বলপ্রয়োগ করা হবে। ‘কেউ ধান খেত, বাড়ি-জমি থেকে বঞ্চিত হবেন না’ বলে আশ্বাস দেন মমতা। বলেন, ‘কথা না বলে কিচ্ছু করব না। এখন যেখানে খালি আছে, সেখানে কাজ হচ্ছে।’
একইসঙ্গে মমতা দাবি করেন, ডেউচা পাঁচামি কয়লা ব্লক কাজ শেষ হলে এক লাখ কর্মসংস্থান তৈরি হবে। সেখানে স্থানীয়দের চাকরির বন্দোবস্ত করা হবে। শুধু তাই নয়, সেই প্রস্তাবিত কয়লা খনির কাজ শেষ হলে বাংলার বিদ্যুতের অভাব থাকবে না বলে দাবি করেন মমতা। তিনি বলেন, ‘এই প্রোগামটা হয়ে গেলে ১০০ বছর বাংলায় বিদ্যুতের কোনও অভাব হবে না। মানে আমরা ১০০ বছরের জন্য বাংলার ছেলেমেয়েদের জন্য বিদ্যুৎ নিশ্চিত করে দিয়ে যাচ্ছি।’

RELATED Articles