দলীয় রাজনীতিতে প্রার্থীপদ ঘোষণার আগেই যদি কোনও নাম ঘিরে চর্চা শুরু হয়, তা সাধারণত কাকতালীয় হয় না—এমনটাই বলছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। বিশেষ করে যখন বিষয়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে, তখন সেই ইঙ্গিতের রাজনৈতিক তাৎপর্য আরও বাড়ে। সাম্প্রতিক সময়ে উত্তরপাড়া কেন্দ্রকে ঘিরে তেমনই এক অন্দরের টানাপোড়েন সামনে এসেছে, যা নিয়ে চুপচাপ হলেও স্পষ্ট অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বাম শিবিরে।
দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম নাকি কয়েক দিন আগে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়কে উত্তরপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রে বিশেষভাবে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন। এর পর থেকেই সেখানে তাঁর ঘন ঘন উপস্থিতি নজরে আসে। জনসংযোগ, কর্মসূচি, স্থানীয় সংগঠন—সব ক্ষেত্রেই সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। এমনকি সামাজিক মাধ্যমে তাঁর কর্মসূচির প্রচারও শুরু হয় জোরদারভাবে। দলের অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্মেও উত্তরপাড়াকে ঘিরে তাঁর কার্যকলাপের ছবি ও ভিডিও প্রকাশিত হতে থাকে। এই ধারাবাহিক উপস্থিতিই অন্য তরুণ নেতাদের মনে প্রশ্ন তোলে—তাহলে কি আগাম প্রার্থীপদের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে?
গত লোকসভা নির্বাচনে শ্রীরামপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন দীপ্সিতা ধর। উত্তরপাড়া বিধানসভার অন্তর্গত এলাকায় তিনি তুলনামূলকভাবে বেশি ভোট পান। সেই প্রেক্ষিতে দলের একাংশের মতে, এই কেন্দ্রের সামাজিক ও সাংগঠনিক সমীকরণ তাঁর হাতেই বেশি পরিচিত। ফলে হঠাৎ করে মীনাক্ষীর সক্রিয়তা অনেকের কাছে ‘অ্যাডভান্টেজ’ বলেই মনে হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, যাঁরা দীর্ঘদিন মাঠে-ময়দানে কাজ করছেন, তাঁদের না জানিয়ে ‘চুপি-চুপি’ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা সংগঠনের পক্ষে শুভ বার্তা নয়। এমনকি দল ছাড়ার পর প্রতীক উর রহমান যে ‘প্যারালাল নেতৃত্ব’-এর কথা বলেছিলেন, সেই বিতর্কও ফের আলোচনায় উঠে এসেছে।
মীনাক্ষীর দ্রুত উত্থান নিয়েও দলের অন্দরে ফিসফাস শোনা যাচ্ছে। অল্প বয়সে কেন্দ্রীয় কমিটিতে জায়গা পাওয়া, গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে এগিয়ে থাকা—এসব নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন কেউ কেউ। দলের প্রবীণ ও মধ্যম সারির কয়েক জন নেতা মনে করছেন, আরও অনেক অভিজ্ঞ কর্মী রয়েছেন যাঁদের দীর্ঘ সংগঠনী অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাঁদের পরিবর্তে এত দ্রুত গুরুদায়িত্ব দেওয়া নিয়ে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। যদিও প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলছেন না, তবুও অভিমান যে বাড়ছে, তা অস্বীকার করা যাচ্ছে না।
আরও পড়ুনঃ West Bengal : কান ধরে উঠবস থেকে ছাত্রীর সামনে নাকখত দিয়ে ক্ষমা—ভাইরাল ভিডিওয় ফাঁস শিক্ষকের কুকী*র্তি!
এই পরিস্থিতির মাঝেই কোন্ননগরের একটি কর্মসূচিতে প্রতীক উর রহমান প্রসঙ্গে স্মৃতিচারণ করে মীনাক্ষী বলেন, ব্যক্তি ও কমরেড—দুই পরিচয়ে তিনি তাঁর সঙ্গে লড়াইয়ের ময়দানে ছিলেন। এখনই সেই প্রসঙ্গে বিস্তারিত বলার মানসিকতা তাঁর নেই। বক্তব্যে সংযম থাকলেও, রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট—দলীয় সম্পর্কের টানাপোড়েন এখনো স্পর্শকাতর। উত্তরপাড়া প্রার্থীপদ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও ঘোষণা হয়নি। তবে তরুণ নেতৃত্বের মধ্যে যে বিভাজনরেখা স্পষ্ট হচ্ছে, তা ভবিষ্যতে আরও বড় আকার নেবে কি না—সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সিপিএমের অন্দরে।





