ADB-দক্ষিণ কোরিয়ার আর্থিক সহায়তায় ৫,০০০ কোটি টাকার শিল্প বিপ্লবের পথে বাংলা! শুভেন্দু সরকারের মাস্টারপ্ল্যানে রঘুনাথপুর-ডানকুনি হতে চলেছে নতুন বিনিয়োগের কেন্দ্র, কী এমন পরিকাঠামো গড়ে উঠছে, যা বদলে দিতে পারে রাজ্যের কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ?

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের পর রাজ্যের উন্নয়নের নতুন রূপরেখা সামনে আসতে শুরু করেছে। টানা ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক মহলের দাবি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রাজ্য সরকার শুরু থেকেই কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় রেখে শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে। দীর্ঘদিন ধরে শিল্প বিনিয়োগে পিছিয়ে থাকা পশ্চিমবঙ্গকে ফের দেশের অন্যতম উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্য নিয়েই একের পর এক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আর সেই প্রচেষ্টারই বড় ফল হিসেবে এবার সামনে এসেছে প্রায় ৫,০০০ কোটি টাকার একটি শিল্প ও অর্থনৈতিক করিডর উন্নয়ন প্রকল্প।

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পে বড় অঙ্কের অর্থায়ন করছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB) এবং দক্ষিণ কোরিয়ার এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক। আন্তর্জাতিক এই দুই আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় প্রায় ৪২৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আসছে, পাশাপাশি রাজ্য সরকারও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৫,০০০ কোটি টাকার এই প্রকল্পকে রাজ্যের শিল্পোন্নয়নের অন্যতম মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও রাজ্যে বড় শিল্প গড়ে তুলতে গেলে প্রথমে প্রয়োজন শক্তিশালী অবকাঠামো, আর সেই ভিত্তি তৈরির কাজেই জোর দিচ্ছে বর্তমান সরকার।

প্রকল্পের আওতায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে রঘুনাথপুর এবং ডানকুনি অঞ্চল। এই দুই এলাকাকে শিল্প ও লজিস্টিকস হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নতুন সড়ক নির্মাণ, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র স্থাপন, আধুনিক গুদাম ব্যবস্থা, মালবাহী পরিবহণের জন্য উন্নত নেটওয়ার্ক এবং শিল্প করিডর তৈরির কাজ ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হবে। পাশাপাশি শিল্প স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন দ্রুত দেওয়ার লক্ষ্যে প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকেও আরও সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের বিশ্বাস, বিনিয়োগকারীদের জন্য সুবিধাজনক পরিবেশ তৈরি হলে দেশি ও বিদেশি সংস্থাগুলি পশ্চিমবঙ্গকে নতুন করে গুরুত্ব দেবে।

ডবল ইঞ্জিন সরকারের অন্যতম বড় দাবি হল, কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বিত উদ্যোগের ফলে উন্নয়ন প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন আগের তুলনায় অনেক দ্রুত হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সহযোগিতা, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আস্থা এবং রাজ্য সরকারের সক্রিয় ভূমিকার ফলে পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। শিল্পমহলের একাংশের মতে, দীর্ঘদিন ধরে যেসব বড় বিনিয়োগ রাজ্য এড়িয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছিল, অবকাঠামোগত উন্নয়ন সম্পূর্ণ হলে তার একটি বড় অংশ পশ্চিমবঙ্গের দিকে ফিরে আসতে পারে। এর ফলে শুধু শিল্প নয়, পরিবহণ, পরিষেবা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

কর্মসংস্থানের প্রশ্নে এই প্রকল্পকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সরকার। বহু বছর ধরে চাকরির খোঁজে রাজ্যের হাজার হাজার তরুণকে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতে হয়েছে। নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠলে উৎপাদন, নির্মাণ, লজিস্টিকস, তথ্যপ্রযুক্তি ও সহায়ক পরিষেবা খাতে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে রঘুনাথপুর ও ডানকুনিকে কেন্দ্র করে নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু হলে আশপাশের জেলাগুলিও তার সুফল পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি ক্ষুদ্র উদ্যোগপতিরাও নতুন বাজার ও সুযোগের সন্ধান পাবেন।

আরও পড়ুনঃ ডিভোর্সি অর্ণবের সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন টলিপাড়ার আনাচে কানাচে! ‘আমরা চোখে চোখে কথা বলি…’ পাল্টা কী জবাব, ‘বিদ্যা’ স্বস্তিকা দত্তের?

প্রায় দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে এই অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পের মূল কাজ সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এটি কেবল একটি বিনিয়োগ প্রকল্প নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের শিল্প পুনর্জাগরণের ভিত্তি নির্মাণের উদ্যোগ। ডবল ইঞ্জিন সরকারের উন্নয়নমুখী নীতি, আন্তর্জাতিক অর্থায়নের সমর্থন এবং শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরির প্রচেষ্টাকে সামনে রেখে রাজ্য নতুন অর্থনৈতিক অধ্যায়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে। আগামী দিনে এই প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমবঙ্গে শিল্প, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর