WB Govt: নিয়ম না নজিরভাঙা সিদ্ধান্ত! ভিনরাজ্যে পাঠানো হচ্ছে বাংলার স্বরাষ্ট্রসচিবকে, মুখোমুখি রাজ্য–কমিশন!

নির্বাচনের সময় এলেই প্রশাসনিক স্তরে চাপ বাড়ে, তা নতুন কিছু নয়। কিন্তু এবারে সেই চাপ যেন আরও গভীর। রাজ্য প্রশাসনের অন্দরে তৈরি হয়েছে অস্বস্তির পরিবেশ। কারণ এমন এক নির্দেশ, যা আগে কখনও সামনে আসেনি বলে দাবি অনেকেরই। একদিকে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত, অন্যদিকে রাজ্যের আপত্তি—এই টানাপোড়েনের মাঝেই তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন। আদৌ কি কোনও রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তা ভিনরাজ্যে গিয়ে নির্বাচন সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করতে পারেন? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে।

আইএএস ও আইপিএস অফিসারদের ভিনরাজ্যে অবজারভার হিসেবে পাঠানো নতুন কোনও প্রথা নয়। অতীতেও বহুবার এমন হয়েছে। কিন্তু এবারে বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্রসচিব। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী তাঁকেও ভিনরাজ্যে অবজারভার হিসেবে পাঠানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। রাজ্যের তরফে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানানো হয়। স্বরাষ্ট্রসচিবের নাম বাদ দিয়ে বিকল্প তালিকাও পাঠানো হয়েছিল কমিশনের কাছে। কিন্তু সেই তালিকা এখনও পর্যন্ত গৃহীত হয়নি। ফলে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে অবজারভারদের জন্য প্রশিক্ষণ শুরু হওয়ার কথা। সেই প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার জন্য যে তালিকা নির্বাচন কমিশন পাঠিয়েছে, তাতে এখনও পর্যন্ত কোনও পরিবর্তন হয়নি। অর্থাৎ স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ প্রসাদ মীনার নামও বহাল রয়েছে। শুধু তিনিই নন, পশ্চিমবঙ্গ থেকে মোট ১৫ জন আইএএস এবং ১০ জন আইপিএস অফিসারকে ভিনরাজ্যে অবজারভার হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্তেও অনড় কমিশন। রাজ্যের পাঠানো সংশোধিত তালিকা নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—তাহলে কি স্বরাষ্ট্রসচিবকেও সেই ট্রেনিংয়ে যোগ দিতেই হবে?

এই বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও তীব্র হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপির ইঙ্গিতেই নির্বাচন কমিশন এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এবং এটি একটি পরিকল্পিত পদক্ষেপ। তাদের দাবি, রাজ্যের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনকে দুর্বল করতেই এমন নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। পাল্টা বিজেপির বক্তব্য, এতে নতুন কিছু নেই। নিয়ম মেনেই অবজারভার নিয়োগ করা হয়েছে এবং এতে রাজনীতির কোনও ভূমিকা নেই। তাদের দাবি, নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ CPIM : ‘আমার দুই পা কেটে নিয়েছিল সিপিএম’—রাজ্যসভায় বিস্ফোরক দাবি বিজেপি সাংসদের!

নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, অবজারভার নিয়োগের জন্য রাজ্যের কাছে একাধিকবার তালিকা চাওয়া হলেও সময়মতো তা পাওয়া যায়নি। সেই কারণেই কমিশন নিজেরাই নির্দিষ্ট করে অফিসারদের নাম ঠিক করে দেয়। পরে রাজ্য যে তালিকা পাঠায়, তা এখনও বিবেচনাধীন। কিন্তু প্রশিক্ষণের সময় ঘনিয়ে আসায় অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত স্বরাষ্ট্রসচিব ভিনরাজ্যে অবজারভার হিসেবে যাবেন কি না, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও উত্তর নেই। আর সেই অনিশ্চয়তাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজ্য প্রশাসনের কাছে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles