উচ্চমাধ্যমিকের সম্ভাব্য ফলপ্রকাশ আগস্টে, কি হবে মাধ্যমিকের ক্ষেত্রে? জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

গত মার্চ মাস থেকে দেশব্যাপী মানুষ অতি ভয়ঙ্কর অতিমারীর মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এমত অবস্থায় করোনা রুখতে মার্চ মাসের মাঝামাঝিই রাজ্যের সমস্ত পরীক্ষা স্থগিত করে দেওয়া হয়। যার চলতে বাকি থেকে যায় উচ্চমাধ্যমিকের তিনটি বিষয়ের পরীক্ষা। তবে বাকি পরীক্ষাগুলি কবে হবে, সেই দিনের কথা ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে রাজ্য। আগামী ২৯ জুন, ২ ও ৬ জুলাই উচ্চমাধ্যমিকের বাকি পরীক্ষাগুলি নেওয়া হবে। তবে কবে কোন বিষয় পরীক্ষা হবে তা জানা যায়নি এখনো। একে করোনায় রক্ষে নেই আমফান দোসর।গত বুধবারে ১৮৫ কিমি/ঘন্টায় ধেয়ে আসা ঝড়ের জেরে বিপর্যস্ত গোটা রাজ্য। তবে সমস্ত সমস্যাকে দূর করে পূর্ব নির্ধারিত নির্ঘন্ট মেনেই ২৯শে জুন উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা হতে চলেছে। আর ৬ই জুলাই এর মধ্যে পরীক্ষা শেষ হলে এক মাসের মধ্যে ফল প্রকাশের পরিকল্পনাও করেছে রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার এমনটাই আশ্বাস দিলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

আমফানের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দক্ষিনবঙ্গের আটটি জেলা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অসংখ্য স্কুলও। সেগুলির মধ্যে বেশিরভাগই ছিল উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষা কেন্দ্র। প্রায় সাড়ে চারশটি স্কুল ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে এর আগেই জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তাই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে বিকল্প রাস্তা খুঁজছেন রাজ্য সরকার।প্রয়োজনে স্থানীয় কলেজগুলিতে উচ্চমাধ্যমিকের ব্যবস্থা করার যায় কি না, সেই দিকটা দেখার জন্য শিক্ষা দফতরের আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও সবারই লক্ষ্য ৬ জুলাইয়ের মধ্যে যাতে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ করা যায়। এই পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে সমস্ত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে বৃহস্পতিবার একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

উচ্চ-মাধ্যমিকের পাশাপাশি মাধ্যমিকের ফলপ্রকাশ নিয়েও উদ্বিগ্ন সবাই। মাধ্যমিকের ফলপ্রকাশ কবে হবে এর উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মাধ্যমিকের ফল প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। খুব শীঘ্র ফল প্রকাশিত হওয়ারও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। যদিও নির্দিষ্ট তারিখ এখনো নিশ্চিত করে ঘোষণা করেননি। এবছর রাজ্যে মোট প্রায় ১০ লক্ষ ১৫ হাজার ছাত্র-ছাত্রী মাধ্যমিকে বসেছিল।

এদিকে, করোনা এবং আমফানের যৌথ দাপটের জেরে রাজ্যে স্কুল ছুটির মেয়াদ বাড়িয়ে ৩০ জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। কবে থেকে ক্লাস চালু হবে তা ৩০ জুনের পরের পরিস্হিতি দেখে বিচার করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তবে স্কুল খুললেও সামাজিক দূরত্ব মেনেই ক্লাস করতে হবে। তাই একদিনে সব পড়ুয়াকে ক্লাসে না ডাকার চিন্তাভাবনা করছে রাজ্য সরকার। এমনই জানিয়েছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। NCERT-র তরফেও রাজ্যগুলির কাছে এই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল।

RELATED Articles

Leave a Comment