শনিবার ফের ভোট বাংলায়। নির্বাচন কমিশনের তরফে রিপোলের ঘোষণা ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একাধিক অভিযোগ, বিতর্ক এবং স্ক্রুটিনির পর অবশেষে ডায়মন্ড হারবার ও মগরাহাট পশ্চিমের মোট ১৫টি বুথে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কোথায় কোথায় ভোট হবে, কেন এই সিদ্ধান্ত সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন যথেষ্ট উত্তপ্ত।
নির্বাচন কমিশনের সূত্র অনুযায়ী, ডায়মন্ড হারবারের ১১৭, ১৭৯, ১৯৪ এবং ২৪৩ নম্বর বুথে রিপোল অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে মগরাহাট পশ্চিমে ৪৬, ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১৪২, ২১৪, ২১৫, ২১৬, ২৩০, ২৩১ ও ২৩২ নম্বর বুথে পুনর্নির্বাচন হবে। শনিবার সকাল ৭টা থেকেই ভোটগ্রহণ শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে। কমিশনের এই সিদ্ধান্তের পর প্রশাসনিক প্রস্তুতিও জোরদার করা হয়েছে, যাতে নতুন করে কোনও অনিয়মের অভিযোগ না ওঠে।
রিপোলের সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে একাধিক গুরুতর অভিযোগ। স্ক্রুটিনির সময় কমিশনের হাতে উঠে এসেছে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ উঠেছে, কিছু বুথে ইভিএমে টেপ লাগানো হয়েছিল। শুধু তাই নয়, বেশ কয়েকটি বুথের সিসিটিভি ক্যামেরাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়। তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হল, এই ক্যামেরা বন্ধ হওয়ার তথ্য সময়মতো কমিশনের কাছে পৌঁছায়নি। পরে জানা যায়, নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে সেই তথ্য আদানপ্রদান ব্যাহত হয়েছিল।
এই পরিস্থিতিতে কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত আগেই জানিয়েছিলেন, ডায়মন্ড হারবারের অবজারভার এবং রিটার্নিং অফিসার চারটি বুথে রিপোলের সুপারিশ করেছেন। সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। একইভাবে মগরাহাট পশ্চিমের ক্ষেত্রেও একাধিক বুথে অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে, যার ভিত্তিতেই পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ফলতা নিয়েও জোর চর্চা শুরু হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত ফলতায় রিপোল নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি কমিশন, তবে সূত্রের খবর, সেখানে প্রায় ৩০টি বুথে গোলযোগের অভিযোগ রয়েছে। কমিশন আগেই জানিয়ে দিয়েছিল, যদি কোথাও ক্যামেরা বন্ধ করা হয় বা ঢেকে দেওয়া হয়, তাহলে সেই বুথে রিপোল হতে পারে। ফলে এখন নজর রয়েছে ফলতার দিকে, সেখানে নতুন করে ভোটের ঘোষণা আসে কিনা সেটাই দেখার।





