মহারাষ্ট্রে এখন সরকার ভাঙনের মুখে। এমন আবহে বেশ চাপের মুখে শিবসেনা সরকার। জোটসঙ্গী বিধায়করা আদৌ কখন কে কোন দলে চলে যাবেন, তা নিয়ে বেশ ডামাডোলের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এমন আবহে এবার মহারাষ্ট্র সরকারের পাশে দাঁড়িয়ে বিজেপিকে কার্যত তুলোধোনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মমতার দাবী, বিজেপি ক্ষমতার জোরে মহারাষ্ট্র সরকারকে উৎখাত করতে চাইছে। এমন অভিযোগ এনে উদ্ধব ঠাকরের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তবে এই বিষয় থেকেই উঠে আসে আরও কিছু প্রশ্ন। তাহলে কী নিজের গদি হারানোর ভয় পেয়ে বসেছে মমতাকে?
আসলে, একুশের বিধানসভা নির্বাচনের সময় বিজেপি যেভাবে বাংলার রাজনীতির দিকে ঝুঁকেছিল, কিছু কিছু তৃণমূল নেতারাই মনেই করে নিয়েছিলেন যে বিজেপিই বাংলায় সরকার গড়তে চলেছে। যে কারণে নির্বাচনের আগে একাধিক দলবদলের ঘটনা নজরে এসেছে।
একুশের নির্বাচনে রাজ্যে হিংসার ছবি খুব স্পষ্ট। বিরোধীদের আক্রমণ থেকে শুরু করে ছাপ্পা ভোট, সবরকম অভিযোগই সেই সময় ওঠে তৃণমূলের দিকে। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে তৃতীয়বার সরকার প্রতিষ্ঠা করার পরও বিরোধী, বিশেষত বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলা, খুন, ঘরছাড়া করার ঘটনা বাংলায় নজিরবিহীন।
একুশের নির্বাচনে জয়লাভ করেই কার্যত তৃণমূলের পরের লক্ষ্য হয় জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের জমি শক্ত করা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রধানমন্ত্রী করার দিকে এগোতে থাকে ঘাসফুল শিবির। যার জেরে প্রথমেই শুরু হয় বাংলা ছাড়াও অন্যান্য রাজ্যে সংগঠনকে মজবুত করা। আর এর প্রথম পদক্ষেপ ছিল গোয়ার বিধানসভা নির্বাচন। বিরোধীদের দাবী, কোঙ্কণ উপকূলের সে রাজ্যে ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর ও তাঁর সংস্থা আইপ্যাককে কোটি কোটি টাকা দিয়ে নির্বাচনে ঝাঁপিয়ে পড়া। কিন্তু আখেরে লাভের লাভ কিছুই হয়নি। গোয়ায় ভরাডুবিই হয়েছে তৃণমূলের।
এরপর তৃণমূলের লক্ষ্য ছিল উত্তরপ্রদেশের রাজনীতি থেকে যোগী আদিত্যনাথকে সরানো। বলাই বাহুল্য, উত্তরপ্রদেশ ভারতের সবথেকে বড় রাজ্য। স্বাভাবিকভাবেই, এই রাজ্যের নির্বাচনের দিকে সবসময়ই নজর থাকে সমস্ত রাজনৈতিক দলের। তৃণমূলও ব্যতিক্রম ছিল না। যে কারণে উত্তরপ্রদেশে গিয়ে ফেডারেল ফ্রন্টের সঙ্গী হিসেবে সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদবের হয়ে ভোটের প্রচারে নেমেছিলেন খোদ মমতা। কিন্তু সেখানেও স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে তৃণমূল। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দ্বিতীয়বার উত্তরপ্রদেশের গদিতে বসেন যোগী আদিত্যনাথই।
এবার তৃণমূলের প্রধান লক্ষ্য ত্রিপুরা। আগামী বছরই রয়েছে ত্রিপুরায় বিধানসভা নির্বাচন। যদিও সে রাজ্যে এখন মুখোমুখি সেই বিজেপি ও সিপিএমই। তবে হাল ছাড়তে রাজি নয় তৃণমূলও। জোরদার চলছে প্রচার, সভা, মিছিল। ত্রিপুরাতেও যদি তৃণমূলের ভরাডুবি হয়, তাহলে বলাই বাহুল্য ফেডারেল ফ্রন্টের সঙ্গীদের কাছে জাতীয় রাজনীতিতে জমি শক্ত করার দিক দিয়ে বা প্রধানমন্ত্রীর প্রধান বিরোধী মুখ হিসেবে মমতার জনপ্রিয়তা অনেকাংশেই কমবে।
তবে ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ত্রিপুরাতেও জিত আসবে না তৃণমূলের। এর উপর ২০২৪-এই রয়েছে লোকসভা নির্বাচন। আগামী লোকসভা নির্বাচনে ফের একবার ফেডারেল ফ্রন্টকে পিছনে ফেলে বিজেপি যদি তৃতীয়বারের জন্য কেন্দ্রের গদিতে বসে, তাহলে তা যে তৃণমূলের জন্য মোটেই সুখকর হবে না, এমনটা সকলেরই জানা।
আর সেই কারণেই কার্যত বেশ চাপের মুখেই তৃণমূল নেত্রী-সহ নানান তৃণমূল নেতা-মন্ত্রীরা। আসলে ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিজেপি চালু করেছে ‘অপারেশন কমল’ কর্মসূচি। আর তা যে বেশ সফল তা বোঝা যায় বিজেপির এই আট বছরের শাসনকালে ১৮টি রাজ্যে এনডিএ শাসিত রাজ্য দেখেই। মহারাষ্ট্রেও সেই একই পদ্ধতি মেনে শিবসেনা সরকার ফেলে ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার দিকেই এগোয় বিজেপি। ম্যাজিক সংখ্যায় না পৌঁছলেও, বিজেপি যে মহারাষ্ট্রে ক্ষমতা প্রদর্শন শুরু করেছে, তা বেশ স্পষ্ট।
সেই কারণেই মনে করা হচ্ছে, আগামী লোকসভা নির্বাচনের পর বাংলাতেও সেই একই পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারে বিজেপি। আর তার একটা ট্রেলার তো একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে দেখাই গিয়েছে। যে কারণে আপাতত বাংলা ছাড়া অন্য রাজ্যে নিজেদের সংগঠনকে শক্ত করা ও অন্যান্য রাজ্য সরকারের পাশে দাঁড়িয়ে বিজেপিকে দুর্বল করার চেষ্টা জারি ঘাসফুল শিবিরের।





“উত্তম কুমারের ছেলের সঙ্গে দেবলীনার বিয়ে হয়েছে” রাসবিহারীর দলীয় প্রার্থী দেবাশিস কুমারের মেয়েকে নিয়ে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভ্রান্তিকর মন্তব্যে শোরগোল!